
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুণ্ডি ইউনিয়নে যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশনেত্রী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির ধারাবাহিক কার্যসূচির অংশ হিসেবে খলিসাকুণ্ডি ইউনিয়ন কমিটির উদ্যোগে এই স্মরণ সভা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ, দেশপ্রেম এবং দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
আলোচনা সভার শুরুতে বক্তারা দেশনেত্রী ফোরামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশনেত্রী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে রাজপথে ও সাংগঠনিকভাবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনটিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুণ্ডি ইউনিয়ন কমিটি এই বৃহৎ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের ঢল নামে।
উক্ত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশনেত্রী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, ভাইস্-চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল বারী বিশ্বাস। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন সাধারণ মানুষের নেতা। তিনি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া চষে বেড়িয়েছেন দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। আজ দেশের এই চরম সংকটে তাঁর কালজয়ী আদর্শ আমাদের পথ দেখায়। দেশনেত্রী ফোরাম শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করে আগামী দিনে যেকোনো স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত তথ্যবহুল ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন দেশনেত্রী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব লায়ন মোঃ হেলাল উদ্দিন হিলু। তিনি বলেন, “শহীদ জিয়া মানেই বহুদলীয় গণতন্ত্র। তিনি প্রথম জাতিকে বিভক্ত না করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। আজ আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে আন্দোলন চলছে, দেশনেত্রী ফোরামের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সেখানে অগ্রভাগ থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন খলিসাকুণ্ডি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আনারুল মেম্বার। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক অবস্থা তুলে ধরেন এবং রাজপথের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন দেশনেত্রী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও দৌলতপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোঃ আসাদুল হক আসাদ। তিনি যুব ও ছাত্র সমাজকে শহীদ জিয়ার জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশনেত্রী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক মোঃ আজগর আলী এবং খলিসাকুণ্ডি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্যতম নেতা টুটুল মালিথা। নেতৃবৃন্দ বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির এই উপস্থিতি প্রমাণ করে দেশনেত্রী ফোরাম তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কতটা মূল্যায়ন করে।
বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দেশনেত্রী ফোরাম খলিসাকুণ্ডি ইউনিয়ন কমিটির সুযোগ্য সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন। তিনি তাঁর সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং ইউনিয়ন বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুনিপুণ ও চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন দেশনেত্রী ফোরাম খলিসাকুণ্ডি ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জালাল উদ্দিন। তাঁর সাবলীল উপস্থাপনা অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
আলোচনা সভা শেষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন খলিসাকুণ্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মসজিদের সম্মানিত ইমাম রফিকুল ইসলাম। তিনি অত্যন্ত বিনম্র চিত্তে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। মোনাজাত শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় দুস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।