
অপু দাস ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী:
রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় র্যাবের এক বিশেষ অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ককটেল সদৃশ বস্তু ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই উদ্ধার কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৫, রাজশাহীর সদর কোম্পানির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে চন্দ্রিমা থানার রেলওয়ে মাঠের উত্তর পাশের একটি লেবু বাগানে অভিযান চালায়।অভিযানকালে সেখানে দুটি প্লাস্টিকের বস্তা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সন্দেহজনক হওয়ায় বস্তাগুলো জব্দ করা হলে ভেতরে বিস্ফোরক জাতীয় কিছু থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে র্যাব-৫ এর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। ইউনিটের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে বস্তাগুলো পরীক্ষা করে মোট ২১টি ককটেল সদৃশ বস্তু শনাক্ত করেন।এছাড়াও একটি পৃথক সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র। এর মধ্যে ছিল একটি কান্তা বা হাসুয়া (দৈর্ঘ্য প্রায় ৭২ সেন্টিমিটার), একটি বড় ছোরা (প্রায় ৬৫ সেন্টিমিটার), একটি ছোট ছোরা (প্রায় ৩৮ সেন্টিমিটার) এবং একটি চাকু (প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার)।ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলেও এসব ককটেল ও অস্ত্রের মালিক বা উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো দুষ্কৃতকারী চক্র নাশকতার উদ্দেশ্যে এগুলো সেখানে মজুদ করে রেখেছিল।র্যাব জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।উদ্ধারকৃত ককটেল সদৃশ বস্তু ও দেশীয় অস্ত্র আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।