
সোনাগাজীতে মুসলিম-হিন্দু দুই পরিবারের জমি বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
পরিবেশ মন্ত্রীর নির্দেশে ইউএনও, ওসি ও স্থানীয় নেতাদের উদ্যোগ—সমঝোতায় মীমাংসা, স্বস্তি ফিরল এলাকায়
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমির সীমানা বিরোধের অবসান ঘটেছে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু-এর নির্দেশনায় মুসলিম ও হিন্দু—দুই পরিবারের মধ্যে চলমান বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা হয়।
শনিবার সকালে উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সুলাখালী গ্রামে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা, সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা। তারা উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয় সমাজপতিদের উপস্থিতিতে জমির সীমানা পরিমাপ করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করেন।
জানা যায়, বেলায়েত হোসেন গং এবং অরুণ শর্মা গং—দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতিতে হিন্দু পরিবারটি মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করলে বিষয়টি আবদুল আউয়াল মিন্টু-এর নজরে আসে। তিনি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
ইউএনও রিগ্যান চাকমা জানান,
“একটি ছোট বিষয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল। আমরা উভয় পক্ষের সম্মতিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধান করেছি।”
ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন,
“ভাইরাল হওয়ার কারণে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়ায় এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।”
অন্যদিকে, যুবদল নেতা খুরশিদ আলম ভূঞা জানান,
“মন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বিরোধটি মীমাংসা করেছি।”
স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা
বিরোধ নিষ্পত্তির পর উভয় পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করে এবং পরিবেশ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এলাকাবাসীও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এটিকে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
সামাজিক বার্তা
এই ঘটনাটি প্রমাণ করেছে—সঠিক সময়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, স্থানীয় নেতৃত্বের উদ্যোগ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব।
পাশাপাশি এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়।