
জাহাঙ্গীর আলম স্টাফ রিপোর্টার মানিকগঞ্জ
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে ঘিরে রাজৈরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজৈর খেয়াঘাট এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা (এমপি)।৩৩৬.৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মিত হলে সাটুরিয়ার বরাঈদ ইউনিয়নের গোপালপুর বাজার হয়ে অপর প্রান্তের ছনকা বাজার পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে দৌলতপুর, টাঙ্গাইল ও নাগরপুরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। বর্তমানে যাতায়াতে যে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়, তা কমে প্রায় ৩০ কিলোমিটার সাশ্রয় হবে বলে জানানো হয়।স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সেতু নির্মাণ। অবশেষে সেই প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে—এতে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ও আনন্দ বিরাজ করছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার জনগণের কল্যাণে দ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তিনি আরও বলেন,দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ জোরদার করা হয়েছে।“ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচির আওতায় মানিকগঞ্জেও শিগগিরই দ্বিতীয় ধাপে কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কৃষকদের মাঝে কার্ড বিতরণ শুরু করা হবে।পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জনগণকে উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন,পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। মানিকগঞ্জে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যুব সমাজের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম লুৎফর রহমান।
জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন।সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৌমিতা গুহ ইভা।
জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস।বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসাঃ জেসমিন আক্তার।ধলেশ্বরী নদীর ওপর এই সেতুটি বাস্তবায়িত হলে সাটুরিয়া, দৌলতপুর, টাঙ্গাইল ও নাগরপুর অঞ্চলের লাখো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।