
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের প্রভাব এখন দেশের বাজারেও স্পষ্ট। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের দাম বাড়ায় ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক গাড়ি চালানোর খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। এই পরিস্থিতিতে পকেটের খরচ সামলাতে অনেকেই সাশ্রয়ী হওয়ার পথ খুঁজছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে চালকের অসচেতনতা বা কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে অকারণে তেলের খরচ বেড়ে যায়।
আপনার অজান্তেই যে ভুলগুলো জ্বালানি খরচ বাড়াচ্ছে এবং তা থেকে উত্তরণের উপায়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
গাড়ি চালানোর সময় হুট করে দ্রুত গতি তোলা কিংবা আকস্মিক ব্রেক করার অভ্যাস জ্বালানি অপচয়ের প্রধান কারণ। এতে ইঞ্জিনকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো এবং ট্রাফিক বুঝে আগেভাগে ব্রেক করলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল সাশ্রয় হয়।
টায়ারে বাতাসের চাপ কম থাকলে রাস্তার সাথে ঘর্ষণ বাড়ে, ফলে গাড়ি টানতে ইঞ্জিনের বেশি শক্তি বা জ্বালানি লাগে। নিয়মিত টায়ারের প্রেশার চেক করুন এবং সঠিক মাত্রায় বাতাস রাখুন।
জ্যামে কিংবা ট্রাফিক সিগন্যালে দীর্ঘ সময় ইঞ্জিন চালু রাখা জ্বালানি নষ্ট করার অন্যতম উপায়। বিশেষজ্ঞদরে মতে, কয়েক মিনিটের বেশি থামতে হলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
গাড়ির ইঞ্জিন, এয়ার ফিল্টার বা স্পার্ক প্লাগ নিয়মিত পরিষ্কার না করলে কর্মক্ষমতা কমে যায়। একটি অপরিচ্ছন্ন ইঞ্জিন বেশি তেল খরচ করে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর সার্ভিসিং করানো জরুরি।
গাড়িতে অপ্রয়োজনীয় ভারী জিনিসপত্র রাখবেন না। অতিরিক্ত ওজন মানেই ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আপনার ফুয়েল মিটারে।
গরমের দেশে এসি ছাড়া চলা কঠিন, তবে প্রয়োজন ছাড়া সারাক্ষণ এসি চালিয়ে রাখলে জ্বালানি বেশি পোড়ে। অনুকূল আবহাওয়ায় এসির ব্যবহার কমিয়ে সাশ্রয় করা সম্ভব।
ম্যানুয়াল গাড়ির ক্ষেত্রে সঠিক গতিতে সঠিক গিয়ার ব্যবহার করুন। কম গতিতে বেশি গিয়ার বা বেশি গতিতে কম গিয়ার—উভয় ক্ষেত্রেই ইঞ্জিনের ক্ষতি হয় এবং তেল খরচ বাড়ে।
উপসংহার: জ্বালানি সাশ্রয় কেবল আপনার ব্যক্তিগত খরচই কমাবে না, বরং পরিবেশের ওপর কার্বন নিঃসরণের চাপও কমাবে। সামান্য সচেতনতা এবং ড্রাইভিং অভ্যাসে ছোট পরিবর্তন আনলেই এই সংকটময় সময়েও গাড়ি চালানো কিছুটা সহজ হবে।