
মাথাব্যথা বা সাধারণ ক্লান্তি—দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় এই সমস্যাগুলোকে আমরা প্রায়ই গুরুত্ব দিই না। কিন্তু সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণা বলছে, সাধারণ মনে হওয়া এই উপসর্গগুলোই হতে পারে মস্তিষ্কের টিউমারের প্রাথমিক সতর্কবার্তা। সঠিক সময়ে লক্ষণগুলো চিনতে না পারায় অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ওল্ফসন ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন হেলথের গবেষক লরা স্ট্যান্ডেন জানান, রোগী এবং চিকিৎসকের অসচেতনতায় অনেক সময় রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হয়, যা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
যে ৭টি লক্ষণ দেখলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন:
১. কথাবার্তায় অস্বাভাবিকতা: কথা বলতে গিয়ে সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা হুট করে আলোচনার খেই হারিয়ে ফেলা মোটেও স্বাভাবিক নয়।
২. স্মৃতিভ্রম বা কনফিউশন: কোনো বিষয়ে মনোযোগ দিতে প্রচণ্ড কষ্ট হওয়া কিংবা খুব সাধারণ কোনো কাজ বা কথা দ্রুত ভুলে যাওয়া মস্তিষ্কের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৩. শরীরে অসাড়তা: শরীরের কোনো এক পাশ, মুখমণ্ডল কিংবা জিহ্বায় হঠাৎ ঝিঁঝিঁ ধরা বা অবশ ভাব অনুভব করা।
৪. দৃষ্টিশক্তির সমস্যা: হঠাৎ করে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা কিংবা একটি জিনিসকে দুটি দেখা (ডাবল ভিশন)। অনেকে একে চোখের পাওয়ারের সমস্যা ভেবে ভুল করেন।
৫. হাতের লেখায় পরিবর্তন: চোখের সাথে হাতের স্নায়বিক সমন্বয়ে ব্যাঘাত ঘটলে হাতের লেখা হঠাৎ অস্পষ্ট বা আঁকাবাঁকা হয়ে যেতে পারে।
৬. আচরণগত পরিবর্তন: ব্যক্তিত্বে আকস্মিক বদল আসা, অকারণে খিটখিটে মেজাজ কিংবা প্রিয় কাজগুলো থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা। একে অনেকে সাধারণ ডিপ্রেশন মনে করে অবহেলা করেন।
৭. অব্যাহত মাথাব্যথা: সাধারণ মাথাব্যথা বিশ্রামে বা ওষুধে কমে গেলেও টিউমারজনিত ব্যথা দিনের পর দিন বাড়তে থাকে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গবেষক লরা স্ট্যান্ডেনের মতে, উপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলো থাকা মানেই টিউমার নিশ্চিত নয়। তবে যদি এই উপসর্গগুলো টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তবে কালক্ষেপণ না করে নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।