
মোঃ জলিল বিশেষ প্রতিনিধি (বরিশাল)
৯ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শেরে বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী চৈতী নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তার সহপাঠী ও শিক্ষার্থীরা। প্রিয় সহপাঠীর মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চৈতীর মৃত্যুর খবরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে তারা স্কুলের সামনে ও আশপাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করলে ওই এলাকায় যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে এবং জনমনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং চৈতীর মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, বারবার সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারালেও অনেক সময় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে দেরি হয়। এ কারণে তারা তাৎক্ষণিক বিচারিক পদক্ষেপের নিশ্চয়তা চান।পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের শোক ও ক্ষোভের প্রতি সহমর্মিতা জানান এবং চৈতীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন।প্রশাসকের এমন আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং সড়ক থেকে সরে দাঁড়ায়। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যায়। এ সময় অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন নিজেই শিক্ষার্থীদের স্কুলের ক্লাসরুম পর্যন্ত পৌঁছে দেন, যা উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, চৈতীর মৃত্যুতে পুরো স্কুল পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তবে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।এদিকে, চৈতীর মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
সচেতন মহলের দাবি, শুধু আশ্বাস নয় বরং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ, ট্রাফিক আইন কঠোর প্রয়োগ এবং বেপরোয়া যানবাহনের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
চৈতীর অকাল মৃত্যু যেন আরেকটি পরিসংখ্যান হয়ে না থাকে এমন প্রত্যাশাই এখন বরিশালবাসীর।