
সাটুরিয়া কৃষি কর্মকর্তার অনুপস্থিতি: সেবা বঞ্চিত জনগণ, বাড়ছে ক্ষোভ
জাহাঙ্গীর আলম স্টাফ রিপোর্টার মানিকগঞ্জ।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার কৃষি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বেলা ২টা ২০ মিনিটে ‘প্রেসক্লাব সাটুরিয়া’র গণমাধ্যমকর্মীরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শনে গেলে কর্মকর্তার বসার চেয়ার শূন্য পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুমের কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ কৃষক ও সেবা প্রত্যাশীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কর্মকর্তার দেখা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অফিসে এসে কর্মকর্তাকে না পাওয়াটা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে অফিসের কর্মচারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, কৃষি কর্মকর্তা “লাঞ্চে গেছেন”। তবে কিছুক্ষণ পর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তারেক মাহমুদ জানান, তিনি লাঞ্চে থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে আসবেন, কারণ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (ডিডি) আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু পরবর্তীতে এক সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে গেছেন এবং সেখান থেকে ধামরাইয়ের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। বিষয়টি জানার পর সাংবাদিক নিজের পরিচয় দিলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—অফিস চলাকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কীভাবে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করেন? এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, এ ধরনের অনিয়ম সাটুরিয়ায় নতুন কিছু নয়। তাদের মতে, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের অনেক কর্মকর্তাই ইচ্ছেমতো অফিসে আসা-যাওয়া করেন, ফলে সরকারি সেবার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, এসব দেখভাল বা তদারকির জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয়দের ভাষায়, “প্রবাদে আছে—ক্ষেতে ভেড়া দিলে ভেড়াই ক্ষেত খায়।” তাদের মতে, যাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারাই দায়িত্বে অবহেলা করলে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তারা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।