
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, আসন্ন পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা ব্যর্থ হলে তার দায় শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, তার নিজের ওপরও বর্তাবে। “সামনে পরীক্ষা। তোমরা ফেল করলে ছয় মাস পর আমিও ফেল করবো—তখন কারও রক্ষা থাকবে না,”—শনিবার সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং ল্যাবের পুরোনো সরঞ্জামের কারণে তারা হাতে-কলমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে তাদের দক্ষতা অর্জনে বড় ধরনের বাধা তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অভিযোগ। এক শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের প্রায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ সমস্যা মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সাত বছর ধরে চাকরি করেও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন ১৯ জন শিক্ষক। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শুনে শিক্ষামন্ত্রী তাদের পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে আত্তীকরণের আশ্বাস দেন।
আরেক শিক্ষক বলেন, ১৯৬৩ সালে নির্মিত পুরোনো ভবনে এখনও ক্লাস ও ল্যাব কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় মেশিনারিজের অভাবে বিশেষ করে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে কার্যকর শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষকরা চাইলেও শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা দিতে পারছেন না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এই খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত থাকলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ। তিনি বলেন, “কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রকল্প নিতে হবে। এজন্য আমরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত নিচ্ছি।” এ সময় তিনি সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান লিখিতভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিল্পখাতের চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন একটি অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উন্নত বিশ্বের উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো দেশগুলো কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়েই নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে। এ ধরনের শিক্ষা কর্মসংস্থান বাড়ায়, জীবনমান উন্নত করে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলূর রশীদ। পরে শিক্ষামন্ত্রীসহ অতিথিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল পরিদর্শন করেন।
আয়োজকরা জানান, এ আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় ২৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এতে শিক্ষার্থীরা মোট ৮৪টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। সেখান থেকে সেরা ছয়টি প্রকল্প আগামী ২৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত