
আবু বকর সিদ্দিক:-মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
গণরায় বাস্তবায়নে বিলম্ব বা টালবাহানা করা হলে দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতারা।রবিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা শহীদী চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জেলা আমির আ জ ম রুহুল কুদ্দুস বলেন,গণরায়ের প্রতি অবজ্ঞা করে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।তিনি বলেন,জনগণের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং কোনো ধরনের গড়িমসি মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও দাবি করেন,হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।৭০ শতাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করা হলে তার পরিণতি শুভ হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।সমাবেশটি ছিল সরকারি দলের ঘোষিত গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ।এতে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজির সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন দলের নেতারা।
তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি নূর হোসেন নূরানী।এছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন-এর মুন্সীগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান বক্তব্য দেন।জেলা জামায়াতের নায়েবে আমিরসহ অন্যান্য নেতারাও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।বক্তারা বলেন,জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।তারা দ্রুত গণরায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহীদী চত্বর থেকে বের হয়।
মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলা একাডেমি এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।এ বিক্ষোভে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তাদের ভাষ্য,গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তারা।মুন্সীগঞ্জে এ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।