
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিঁড়ি ও দেয়ালে থুথুর দাগে বেহাল অবস্থা
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট; রোগী-স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ, কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদারের দাবি
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিঁড়ি, করিডোর এবং বিভিন্ন দেয়ালে থুথু ফেলার কারণে হাসপাতালের পরিবেশ দিন দিন নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং দর্শনার্থীদের অসচেতন আচরণের ফলে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে থুথুর দাগ জমে থেকে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন হাসপাতালের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে সম্ভাব্য ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন তলার সিঁড়ি, দেয়ালের কোণা, করিডোর এবং চলাচলের পথের পাশে থুথুর শুকনো ও তাজা দাগ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। অনেকেই পান, জর্দা কিংবা তামাকজাত দ্রব্য খাওয়ার পর নির্দ্বিধায় দেয়াল ও সিঁড়িতে থুথু ফেলছেন। অথচ এটি যে একটি সরকারি হাসপাতাল, যেখানে প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন—সেই বিষয়টি যেন অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
হাসপাতালে আসা একাধিক রোগী ও স্বজনের অভিযোগ, এমন পরিবেশ একটি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের জন্য মোটেও মানানসই নয়। হাসপাতাল এমন একটি স্থান, যেখানে সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কিছু মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ পুরো পরিবেশকে নোংরা করে তুলছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও একই অবস্থা তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকাশ্যে থুথু ফেলা শুধু নোংরামিই নয়, এটি বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ায়। বিশেষ করে যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বিস্তারের ক্ষেত্রে এমন অসচেতন আচরণ উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাই হাসপাতালসহ জনসমাগমস্থলে থুথু ফেলা থেকে বিরত থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন রোগী, স্বজন এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত মাইকিং এবং প্রয়োজন হলে বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
তাদের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ একটি পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিঁড়ি ও দেয়ালে থুথু ফেলার মতো অসচেতন কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল গড়ে তুলতে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হতে পারে স্থায়ী সমাধান।