
পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন: রোগীদের পাশে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফেনী জেনারেল হাসপাতালে
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে চিকিৎসক, নার্স ও ইন্টার্নদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ—হাসপাতালের ওয়ার্ডজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সহমর্মিতা ও সেবার বার্তা
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের দিনে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগের সাক্ষী হলো ফেনীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। আজ ১৪ এপ্রিল ২০২৬, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রোগীদের সাথে নিয়ে এক ভিন্নধর্মী আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় বাংলা নতুন বছর।
সাধারণত উৎসব মানেই আনন্দ-উল্লাস, তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য এমন দিনগুলো অনেক সময় একঘেয়ে ও নিঃসঙ্গ হয়ে ওঠে। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও ইন্টার্নদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে একটি মানবিক উদ্যোগ, যেখানে রোগীদের মাঝেই ছড়িয়ে দেওয়া হয় নববর্ষের আনন্দ ও শুভেচ্ছা।
এই আয়োজনের নেতৃত্বে ছিলেন ইনডোর মেডিকেল অফিসার (মেডিসিন বিভাগ) ডা. ফারহানা খানম (মিথিলা)। তার সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্সবৃন্দ এবং ইন্টার্ন ডিএমএফ সদস্যরা। সকলে মিলে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিদর্শন (রাউন্ড) করেন এবং রোগীদের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনের আওতায় ছিল—
এইচডিইউ (HDU)
মেডিসিন ওয়ার্ড (পুরুষ ও মহিলা)
কেবিন
ডায়রিয়া ওয়ার্ড
প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের সাথে কথা বলা, তাদের খোঁজ নেওয়া এবং নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনেক রোগীর মুখে ফুটে ওঠে হাসি, যা ছিল এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি এমন মানবিক আচরণ রোগীদের মানসিক শক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডা. ফারহানা খানম (মিথিলা) জানান, “হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য উৎসবের দিনগুলো অনেক সময় কষ্টের হয়ে দাঁড়ায়। আমরা চেষ্টা করেছি তাদের মাঝে একটু হলেও আনন্দ ছড়িয়ে দিতে, যেন তারা নিজেদের একা না মনে করেন।”
এই ব্যতিক্রমী আয়োজন শুধু একটি উদযাপন নয়, বরং এটি ছিল সেবা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। নতুন বছরের এই শুভক্ষণে হাসপাতালের সকলের প্রত্যয়—
“সেবা, সহমর্মিতা আর মানবিকতাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”
বাংলা নববর্ষের এই মানবিক উদযাপন নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।