
বরগুনা সদর উপজেলায় কালির তবক থেকে ফরাজির পোল পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের কাজে চরম অনিয়ম।
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আসাদুজ্জামান।
আমি মোঃ আসাদুজ্জামান।
৬ নং বুড়িরচর ইউনিয়ন ১ নং ওয়ার্ডের রায়ের তবক গ্রাম/ বরগুনা সদর উপজেলা, বরগুনা জেলা। এই এলাকাটি আমার নিজ জন্মভূমি হওয়ার কারণে বহু পরিশ্রমের ফলে আমার গ্রামের সাথে শহরের সংযোগ সড়কটি অনুমোদন নিতে সক্ষম হই। তারপরে এলজিইডি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় যেখানে আমি কারো সাথে কখনো যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করিনি। বরগুনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয় জনাব মেহেদী হাসানের সাথে কাজ অনুমোদনের সময় কথা হয়েছিল পাশাপাশি বরগুড়া জেলায় বিভিন্ন রকমের উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে আন্তরিকতার সাথে আলোচনা হয়েছিল ।
ভেবেছিলাম স্বৈরাচার পতনের পরে উন্নয়নমূলক কাজগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হবে বাস্তবতা তার একেবারেই ভিন্ন বাড়ির সামনের রাস্তার যে কাজ করা হয়েছে তা গতানুগতিক ধারার ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের আমলে যেভাবে দায়সারা কাজ করা হয়েছে তার প্রতিফলন আমি দেখতে পেয়েছি।
আমি ইতিমধ্যে প্রজেক্ট ডিরেক্টর মহোদয়কে অবহিত করেছি তিনি একটি তদন্ত করিয়েছেন তার দপ্তরের বরিশাল বিভাগের একজন ইঞ্জিনিয়ার এর মাধ্যমে তিনি বলেছেন কিছু অসঙ্গতি পেয়েছেন সেগুলো ঠিক করে দেওয়ার জন্য সদর উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার ও সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার কে বলেছেন বাস্তবে বরগুনা সদর থানা প্রকৌশলী ও তার টিম এই রাস্তা সংস্কারের এখনো কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি এবং আমার কাছে পদক্ষেপ নেওয়ার মতো কোন আলামত পরিলক্ষিত হয়নি।
অবশেষে আজ আমি ১৫ ই এপ্রিল ২০২৬ইং যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য রিপোর্ট আকারে প্রকাশ করার পরিকল্পনা হাতে নিলাম।
নিম্ন বিস্তারিত অনিয়মের বিবরণ তুলে ধরার চেষ্টা করছি সরজমিনে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে যতটুকু পেয়েছি হুবহু সেভাবেই বর্ণনা করলাম।
প্রকল্পের নামঃ
Bushbunia UZR -Rayetabak H/S (cyclone centre) Road বাঁশবুনিয়া ইউ জেট আর কালিরতবক সুলিজ হতে রায়ের তবক হাই স্কুল ( সাইক্লোন সেন্টার)
রাস্তার কোড নাম্বার : ৫০৪২৮৪০৫৪। রাস্তা সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের তদন্ত এবং প্রতিকার প্রসঙ্গে অভিযোগ।
এই রাস্তায় পুনর্নির্মাণের কাজ করা হয়েছে। উক্ত কাজটি প্রাথমিকভাবে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়েছেন তিনি এই কাজটিকে অন্য এক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেছেন সেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আবার অন্যদের কাছে বিক্রি করেছেন অর্থাৎ এই কাজটি সম্পন্ন হতে দুই থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে হাত বদল হয়েছে যা তদন্ত সাপেক্ষে বেরিয়ে আসবে বর্তমানে যারা কাজ করছেন তারা অতি লাভের আশায় যেমন তেমনভাবে কাজ করছেন যা সিডিউলের ধারে কাছেও নেই, উক্ত রাস্তাটির সংস্কার কাজে চরম অনিয়ম এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে ।
কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দায়সারাভাবে কাজ করছে, যার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
১। এই সড়কটির দু’পাশে মাটি ভরাটের বাজেট থাকলেও রাস্তার দুই ধারে কোন প্রকারের মাটির কাজ করা হয়নি।
২। রাস্তার দুই ধারে এজিং বসানোর ইট অত্যন্ত নিম্নমানের যা কিছুদিন গেলে বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৩।নিম্নমানের উপকরণ:
সিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের পিচ ও পাথর ব্যবহার না করে অত্যন্ত নিম্নমানের পাথর, খোয়া ও অপর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী পাথর ও ভিটোমিন যে পরিমাণ থিকনেস অর্থাৎ যত মিলিমিটার পূরুত্ব থাকার কথা তার থেকে অনেক কম করে দেয়া হয়েছে।
৪।নিয়মবহির্ভূত কার্পেটিং:
রাস্তার পুরাতন কার্পেটিং না তুলেই বা পরিষ্কার না করেই তার ওপর পাতলাভাবে পিচ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্মাণের কয়েকদিনের মধ্যেই উঠে যাবে বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিবে
৫।তদারকির অভাব:
প্রকল্প তদারকিতে নিয়োজিত উপজেলা ইঞ্জিনের অন্যান্য কর্মকর্তারা (SO/Sub-Assistant Engineer) সরেজমিনে যথাসময়ে কিংবা সব সময় উপস্থিত থাকেন নি, তাহারা দায় সারাভাবে মাঝেমধ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন যার ফলে ঠিকাদার ইচ্ছামতো কাজ করছেন।
৬। রাস্তা সংস্কার কাজের মধ্যে যে কালভার্ট ছিল সেই কালভার্টে সিডিউল অনুসারে রড দেয়া হয়নি রডের পরিমাণ অত্যন্ত কম দেয়া হয়েছে যা ভবিষ্যতে এই কালভার্টকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
এমতাবস্থায়, উক্ত রাস্তাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সরকারের অর্থের অপচয় হবে নিঃসন্দেহে । এলাকার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ এক যুগ পরে এই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য অনুমোদিত হয় যার ফলে এই অবহেলিত এলাকার মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত ও প্রফুল্ল হয়েছিল
এলাকাবাসীর দাবি এই রাস্তাটি যথাযথ শিডিউল ঠিক রেখে সঠিকভাবে সিডিউলের মধ্য থেকে কাজ করার জন্য জোরালো দাবি জানাচ্ছে।