
জামালপুরে বিচারকের বাসায় ১৯ লাখ টাকার চুরি, আটক-৫
মোঃ আজাদ হোসেন নিপুঃ- জামালপুর জেলা প্রতিনিধি।।
জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় দুই বিচারকের ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও হীরার আংটিসহ প্রায় ১৯ লাখ টাকার মালামাল চুরির ঘটনায় সাবেক দুই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) জামালপুর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের নিলুফা (৩২), সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের হাওয়া বেগম (৩০), শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন (৫০), গোলাপবাগ এলাকার সুমন মিয়া (৩৯) এবং কলেজ রোড এলাকার নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯)। এর মধ্যে সুমন মিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক এবং নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল ও বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী প্রায় সাত মাস ধরে জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তারা যথাক্রমে মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে কর্মরত।
গত ৩০ জুন বিকেলে বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল তার স্ত্রীকে জামথল ঘাটে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন। রাত ৮টার দিকে ফিরে এসে তিনি মূল দরজা খুলতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা শয়নকক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, হীরার আংটিসহ মোট ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।
ঘটনার পরদিন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, তদন্তের একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে একই ভবনের একটি বাসার গৃহকর্মী নিলুফাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারকের বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে আটক করা হয়। পরে তাদের তথ্য অনুযায়ী আরও তিনজনকে আটক করা হয়।
জামালপুর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির মূল পরিকল্পনাকারী, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করতে চারজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া গৃহকর্মী নিলুফা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।”
এদিকে জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া সুমন মিয়া ও নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব পূর্ববর্তী কমিটির নেতা ছিলেন। বর্তমানে তারা সংগঠনের কোনো পদে নেই।