
আবু বকর সিদ্দিক:-মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা-তে প্রায় ২০০ বছরের পুরাতন সরকারি রাস্তা ও খাল দখলের অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।খিদিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে,উপজেলার বাসুদিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনা সম্প্রসারণ করতে গিয়ে তিনি ঐতিহ্যবাহী রাস্তা দখল করেন।এছাড়াও ফুলকুচি-মিঠুসার খাল আংশিক ভরাট করে নতুন করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের চিত্র দেখা যায়।ভুক্তভোগীরা জানান,এ রাস্তা দিয়ে অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন।গ্রামবাসীর দাবি,মসজিদ,স্কুল,কলেজ ও বাজারে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই পথ।কিন্তু ধীরে ধীরে রাস্তা সংকুচিত করে সেটিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির অংশে পরিণত করা হচ্ছে।স্থানীয়রা আরও জানান,দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে খালটি দখল করা হচ্ছিল।বর্তমানে রাস্তার মুখে খুঁটি বসিয়ে যান চলাচলও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।
এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।প্রতিবাদ জানাতে গেলে একপর্যায়ে গ্রামবাসী ও চেয়ারম্যানের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।ঘটনার পর এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আরিফুজ্জামান লাভলু বলেন,এটি পরিকল্পিত দখল।তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাব খাটিয়ে ধাপে ধাপে সরকারি সম্পত্তি দখল করা হয়েছে।এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,এর আগেও বিভিন্ন মামলায় আলোচিত ছিলেন ওই চেয়ারম্যান।
সাম্প্রতিক সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ।তিনি বলেন,রাস্তা বন্ধ করা হচ্ছে না,শুধু স্থান পরিবর্তন করা হচ্ছে।তার দাবি,খালের পাশ দিয়ে নতুনভাবে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে যাতে জনসাধারণের সুবিধা হয়।যদিও স্থানীয়রা এ ব্যাখ্যা মেনে নিতে নারাজ।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বলছে,তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু জানান,অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।তিনি বলেন,চেয়ারম্যানকে দ্রুত দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে দখলমুক্ত না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।প্রয়োজনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথাও জানানো হয়েছে।এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত স্থায়ী সমাধান চান।তাদের দাবি,শতবর্ষী রাস্তা ও খাল রক্ষা করতে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।
অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন তারা।