
প্রায় দুই লাখ মানুষের দুর্ভোগ নানিয়ারচর-লংগদু সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষের দাবিতে মানববন্ধন:
জাহিদুল ইসলাম
রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:
রাঙামাটির লংগদু ও নানিয়ারচর উপজেলার বহুল প্রত্যাশিত সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন, দুই উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসন এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) জুমার নামাজ শেষে লংগদু ও নানিয়ারচর উপজেলার স্থানীয় সাধারণ জনগণের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, নানিয়ারচর সদর থেকে লংগদু পর্যন্ত এই সংযোগ সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলমান থাকলেও তা অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে, ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারা বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলার জনসংখ্যা ১,০৬,২৮৭ জন এবং লংগদু উপজেলার জনসংখ্যা ৯০,৪০৮ জন মোট প্রায় ১,৯৬,৬৯৫ মানুষের জীবন-জীবিকা এই সড়কের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
রাঙামাটি সদরে যাতায়াতের জন্য এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান ভরসা লঞ্চ, যা শুকনো মৌসুমে বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প হিসেবে খাগড়াছড়ি হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও শ্রম সব দিক থেকেই চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
বক্তারা আরও বলেন, সড়কের কিছু অংশে কাজ সম্পন্ন হলেও পুরো পথ এখনো চলাচলের উপযোগী হয়নি। বর্তমানে নানিয়ারচর অংশে রাংগীপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার কার্পেটিং এবং ১ কিলোমিটার ব্রিক সলিং রয়েছে। অন্যদিকে লংগদু অংশে বাইট্টাপাড়া আলতাফ মার্কেট (জিরো পয়েন্ট) থেকে বড়াদম স্টিল ব্রিজ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার কার্পেটিং ও ৪ কিলোমিটার ব্রিক সলিং সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ দুই অংশ মিলিয়ে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক আংশিকভাবে নির্মিত হয়েছে।
তাদের ভাষ্যমতে, বাকি প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়কই মূল সমস্যার জায়গা, যা নানিয়ারচরের রাঙ্গাপাড়া কালভার্ট থেকে লংগদুর বড়াদম স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অংশটি চলাচলের উপযোগী করা গেলে পুরো সড়কে স্বাভাবিক যোগাযোগ সম্ভব হবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সড়কের নির্মিত অংশের অন্তত পাঁচটি স্থানে দুষ্কৃতিকারীরা গর্ত করে রেখেছে,এবং জায়গায় জায়গায় সড়কের মধ্যে গাছ ফেলে রেখেছে। যা চলাচলে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বক্তারা দাবি জানান, অবশিষ্ট ১৩ কিলোমিটার সড়কে অন্তত চারটি ছোট কালভার্ট বা পাইপ স্থাপন করা হলে বর্ষা মৌসুমেও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন।
মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে সড়কের কাজ সম্পন্ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।