
দোয়ারাবাজার ভারতীয় গরুর আবাসিক হোটেল ,রাত্রি যাপন ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় ।
সাইফুল আলম।
প্রতিনিধি : দোয়ারাবাজার উপজেলা সুনামগঞ্জ ।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা-র সীমান্তঘেঁষা বোগলাবাজার এলাকায় গরুর খামারের আড়ালে কথিত ‘রাত্রিযাপন কেন্দ্র’ গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। কাগজপত্রে খামার হিসেবে নিবন্ধিত এসব স্থাপনা বাস্তবে রাতভর গরু রাখার বিনিময়ে অর্থ আদায়ের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বোগলাবাজারের বিভিন্ন স্থানে খামারের নামে নির্মিত স্থাপনাগুলো দিনে প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকে। গবাদিপশু লালন-পালনের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। তবে রাত হলেই সেখানে ভারতীয় গরু এনে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব গরুর একটি বড় অংশ সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে আসে এবং পরদিন ভোরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি গরুর জন্য ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ‘রাত্রিযাপন ফি’ নেওয়া হচ্ছে। এতে খামারগুলো কার্যত একটি অস্থায়ী বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, খামারগুলোর বাইরে কেবল দেখানোর জন্য ঘাস-খড় রাখা হয়। ভেতরে নিয়মিত কোনো খামার কার্যক্রম নেই। রাতে গরু এনে রাখা এবং সকালে সরিয়ে নেওয়াই মূল কাজ। এলাকাটিতে মোট ৮টি খামার রয়েছে, যার মধ্যে ৪টি নিবন্ধিত এবং ৪টি অনিবন্ধিত।
বোগলাবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, রাতে খামারগুলোতে গরু ভর্তি হয়, আবার সকালে সেগুলো অন্যত্র চলে যায়। এতে স্থানীয় বাজারে গরুর দামে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় সমাজকর্মী আব্দুল মালেক বলেন, খামারের অনুমোদন ব্যবহার করে এ ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকলে তা শুধু অবৈধ বাণিজ্যই নয়, সীমান্ত এলাকার আইন-শৃঙ্খলার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। প্রশাসনের আরও সক্রিয় নজরদারি প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে এক খামার মালিক আবু হানিফা বলেন, “আমি একা নই, আরও অনেকেই খামারে গরু রাখে। পাইকাররা কিনে এখানে রাখে, পরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়।”
আরেক খামার মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, তারা কোনো অবৈধ গরু রাখেন না। তিনি বলেন, যারা গরু নিয়ে আসে, তারা নিজেদের গরু বলেই রাখে। রাতে রাখার জায়গা চাওয়ায় আমরা দিই।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে খামারের আড়ালে কোনো অবৈধ কার্যক্রম চলতে না পারে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ জানান, খামারের অনুমোদন নীতিমালা অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রাণিসম্পদ বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।