
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের চন্দ্রা-চৌরাস্তা মহাসড়কে বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে বিলকিস পরিবহনের সুপারভাইজার মো. শাহীন মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুলিশকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফন এবং পরিবহন মালিকদের রহস্যজনক আচরণে উঠেছে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ।
গত ১৫ এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে গাজীপুর চৌরাস্তা বঙ্গ মার্কেটের সামনে ও সুলতান মিয়ার পানের দোকানের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, যাত্রী ওঠানোর জন্য সোনার বালা পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১১-১৫২৭) দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে দ্রুতগতিতে আসা বিলকিস পরিবহনের আরেকটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৪৪৯১) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুই বাসের ভয়াবহ চাপের মধ্যে পড়ে বিলকিস পরিবহনের সুপারভাইজার মো. শাহীন মিয়া ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে মারা যান। দুর্ঘটনার পরপরই বিলকিস পরিবহনের চালক মো. মিলন মিয়া বাসটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটার পর স্থানীয়ভাবে সোনার বাংলা পরিবহনের মালিক মো. রুবেল পাঠান এবং বিলকিস পরিবহনের মালিক মো. স্বপন মিয়া বিষয়টি নিয়ে গোপন আলোচনায় বসেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো কিছু না জানিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে নিহত শাহীন মিয়ার মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
দুর্ঘটনা ও মরদেহ গুমের মতো পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিলকিস পরিবহনের মালিক মো. স্বপন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করেন গণমাধ্যম কর্মীরা। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে বলেন, এসব বিষয় নিয়ে নাক গলাবেন না, এটা আমাদের শ্রমিকদের বিষয়, আমরা নিজেরাই দেখবো। এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।
নিহত মো. শাহীন মিয়া ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্বজনহারা পরিবারটি এখন শোকে পাথর। নিহতের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারণেই আমাদের সংসারের হাল ধরার মানুষটিকে হারাতে হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। শোকাহত পরিবারটির একটাই আরজি, আর যেন কোনো বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুই বাসের সংঘর্ষে বাহনগুলোর তেমন কোনো বড় ক্ষতি না হলেও অকালে ঝরে গেছে একটি তাজা প্রাণ। কিন্তু এই মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে? মালিকপক্ষের এহেন আচরণে স্থানীয়দের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে কি চাপা পড়ে যাবে এই হত্যাকান্ড? সঠিক বিচার আদৌ কি মিলবে? নিহত শাহীন মিয়ার পরিবার এবং এলাকাবাসী এখন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা হয়।