
যশোরের শার্শা উপজেলায় বাগআঁচড়া সাতমাইল পশু হাট এখন অস্তিত্ব সংকটে
গোলাম মোস্তফা
শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি, (যশোর)
২১ এপ্রিল ২০২৬
দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি এবং পশুর বড় যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সাতমাইল পশু হাট এখন অস্তিত্ব সংকটে। এক সময় যেখানে হাজার হাজার পশুর সমাগম আর লক্ষ লক্ষ টাকার কেনাবেচায় মুখরিত থাকতো এই প্রাঙ্গণ, আজ সেখানে কেবলই শূন্যতা। রাজনৈতিক টানাপোড়েন, ইজারা সংক্রান্ত জটিলতা এবং অবাস্তব দরপত্র নির্ধারণের ফলে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে এই হাটের দীর্ঘদিনের সুনাম।
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই হাটের আয়ের একটি বড় অংশ আসত ভারতীয় গরু থেকে। বর্তমানে সীমান্ত কড়াকড়ি ও দেশি পশুর উৎপাদন বাড়ায় ভারতীয় গরু আসা প্রায় বন্ধ। অথচ সরকারি ইজারা মূল্যের (Base Price) ক্ষেত্রে আগের সেই রমরমা অবস্থার পরিসংখ্যানকেই মানদণ্ড ধরা হচ্ছে। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় এই বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে ইজারা নিয়ে লাভের মুখ দেখা ইজারাদারদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকসানের ভয়ে নতুন করে কেউ ইজারা নিতে সাহস পাচ্ছেন না।
পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। হাটের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে, তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ ব্যবসায়ী ও খামারিদের ওপর। প্রশাসনের তদারকির ধরণ এবং পারিপার্শ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা এখন এই হাটে আসতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে হাটটি কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে।