
ঘাটাইল দেওপাড়া থেকে ঢাকার চুলায় কাঠ-লাকড়ি ব্যবসায় স্বাবলম্বী দেওপাড়ার মানুষ
আঃহালিম আতিক টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়ন এখন কর্মসংস্থানের এক নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানকার মানুষ গাছ থেকে আহরিত কাঠ ও লাকড়ি সরাসরি ঢাকায় পাইকারি বাজারে বিক্রির মাধ্যমে অভাব জয় করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। নদীপথে সহজ যোগাযোগের সুবিধা থাকায় স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীদের সাথে ঢাকা থেকে আসা পাইকারদের এক দারুণ অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে।নদীপথে বাণিজ্য ও নতুন কর্মসংস্থান দেওপাড়া ইউনিয়নের ভৌগোলিক অবস্থান ও নদীপথের সহজলভ্যতা এই ব্যবসার প্রসারে বড় ভূমিকা রাখছে। স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত রান্নার উপযোগী লাকড়ি ট্রলারযোগে সরাসরি চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে। এই ব্যবসায় জড়িত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগে কর্মসংস্থানের অভাব থাকলেও এখন কাঠ ও লাকড়ি ব্যবসা ঘিরে এলাকার বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। গাছ কাটা, লাকড়ি প্রস্তুত করা এবং ট্রলারে লোড করাসহ নানা পর্যায়ে শত শত শ্রমিক এখানে কাজ করছেন।সফলতার গল্প
স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেওপাড়ার এই লাকড়ি ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও বাসাবাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন। ঢাকার পাইকাররা নিজস্ব ট্রলার নিয়ে সরাসরি ঘাটে এসে লাকড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে যেমন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন, তেমনি ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীরাও লাভের মুখ দেখছেন।স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, “আগে কাজের সন্ধানে মানুষ বাইরে যেত, কিন্তু এখন আমাদের বাড়ির কাছেই লাকড়ি বিক্রির সুযোগ তৈরি হওয়ায় আমরা স্বাবলম্বী হতে পেরেছি। নদীপথে পরিবহন খরচ কম হওয়ায় আমাদের লাভের অংশও আগের চেয়ে বেড়েছে।”
অর্থনীতিতে প্রভাবদেওপাড়া ইউনিয়নের এই কাঠ ব্যবসা শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, বরং এলাকার সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নদীভিত্তিক এই বাণিজ্য স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এর ফলে বেকারত্ব কমেছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে বনজসম্পদ আহরণ ও বিপণন বজায় রাখতে পারলে দেওপাড়ার এই উদ্যোগটি অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি রোল মডেল হতে পারে।