
প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে ভয়াবহ সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেল ছিলাপাঞ্জা ও তাতারী মহল্লা গ্রামবাসী
শাব্বীর আহমদ শিবলী নোমানী
বিশেষ প্রতিনিধি হবিগঞ্জ ।।
বানিয়াচং থানা পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে ভয়াবহ সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেল ছিলাপাঞ্জা ও তাতারী মহল্লা গ্রামবাসী। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের লোকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলে। পরে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়।
সরজমিনে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত তাতারী মহল্লাবাসী কাঁচা রাস্তা দিয়ে মেইন সড়কে যাতায়াত করছিলেন। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নারী-পুরুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছিলেন।
সম্প্রতি তাতারী মহল্লার বাসিন্দা ও উপজেলা জমিয়তের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল জলিল ইউসুফী এঁর অনুরোধে ‘ছিলাপাঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তাতারী মহল্লা মসজিদ’ পর্যন্ত গ্রামীণ রাস্তাটি ইট সলিংয়ের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন।
এ রাস্তায় কাজ না হতে আপত্তি তুলেন ছিলাপাঞ্জা গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের আপত্তি হচ্ছে, এ রাস্তায় ইট সলিং হলে এ জায়গায় জানাযা ও বার্ষিক তাফসির মাহফিলসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে তাতারী মহল্লাবাসীর দাবি হচ্ছে, এ রাস্তা সরকারি জায়গায় হয়েছে।
২০০২/৩ সালে সরকারি টাকায় মাটি ভরাট হয়। এরপর সময়ে সময়ে সময়ে এ রাস্তায় মাটি ভরাট হয়েছে। তবে কেন এবার বাঁধা আসলো তা বোধগম্য হচ্ছে না। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন এমপি ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। শনিবার সকালে রাস্তার জন্য ৫ গাড়ি ইট আসলে এগুলো আটকিয় দেন ছিলাপাঞ্জার লোকজন।
এ নিয়ে উভয় গ্রামবাসীর মধ্যে আবারও চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের রূপ নেয়। খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হোসেন মারুফ, জমিয়ত সভাপতি মাওলানা শায়েখ মখলিসুর রহমান,
সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শেখ বশির আহমদ, সর্দার মস্তুফা মিয়া, উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল আহমেদ, বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব সভাপতি শিব্বির আহমদ আরজু, উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আজিজুর রহমান খান বাবু,
সাংবাদিক শেখ নুরুল ইসলাম ও এনটিভি প্রতিনিধি আক্তার হোসেন আলহাদী ও ৬নং ওয়ার্ড সদস্য তোফাজ্জুল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়।