
ফেনীর জহরিয়া মসজিদে নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা: ইমাম-খতিব এক ব্যক্তির হাতে, মুসল্লিদের আস্থা ও প্রত্যাশা
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
মাওলানা কাসেম সাহেবের ইন্তেকালের পর মুফতি ইলিয়াস বিন নাজেমের দায়িত্ব গ্রহণ—ধর্মীয় নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা, উন্নয়নে ফারুক হারুনের সাহসী ভূমিকা, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মুসল্লিরা
ফেনী শহরের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় স্থাপনা জহরিয়া মসজিদকে ঘিরে সম্প্রতি আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে মসজিদের নেতৃত্ব কাঠামো ও পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই মসজিদে ইমাম ও খতিব—দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আলাদা ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা কাসেম সাহেবের ইন্তেকালের পর সেই কাঠামোতে পরিবর্তন আসে।
বর্তমানে মসজিদের খতিব মুফতি ইলিয়াস বিন নাজেম একাই ইমাম ও খতিব—উভয় দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় মুসল্লিদের একটি বড় অংশের মতে, তাঁর আমল-আখলাক, ব্যক্তিত্ব ও ধর্মীয় জ্ঞানের কারণে তিনি দ্রুতই সবার আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে তাঁর ইমামতিতে নামাজ আদায় করে আত্মিক প্রশান্তি অনুভব করছেন বলে জানান।
জহরিয়া মসজিদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পরিচালনা পরিষদ। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফারুক হারুন—যিনি ফেনী শহরের মসজিদ উন্নয়নে একটি পরিচিত ও আলোচিত নাম। তাঁর নেতৃত্বে ফেনী বড় জামে মসজিদের সুউচ্চ মিনার নির্মাণ বাস্তবায়ন একটি সাহসী ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
শুধু তাই নয়, রামপুর পাটোয়ারী বাড়ি মসজিদের উন্নয়ন কাজেও তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় “পানির ওপর মসজিদ” নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি ৯০-এর দশকে দেশের অন্যতম নান্দনিক মসজিদ হিসেবে খ্যাতি পায়।
স্থানীয়দের মতে, ফারুক হারুনের কাজের ধরণ কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী। কোনো মসজিদের উন্নয়ন কাজে যুক্ত হলে তিনি তহবিলে কত অর্থ আছে—তা বিবেচনা না করে বরং কাজ শুরু করে দেন এবং পরে তা বাস্তবায়নের পথ খুঁজে নেন। এই সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য যেমন তিনি প্রশংসিত, তেমনি সমালোচনাও রয়েছে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় মতভেদ ও আলোচনা থাকাটা স্বাভাবিক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই বলেন, যারা কাজ করেন তাদেরই সমালোচনা হয়, আর যারা কোনো দায়িত্ব নেন না তারা সমালোচনায় বেশি সক্রিয় থাকেন।
বর্তমানে জহরিয়া মসজিদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। মুসল্লিদের প্রত্যাশা—পরিচালনা পরিষদ সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে, ধর্মীয় পরিবেশ ও ঐক্য বজায় রেখে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সবমিলিয়ে, জহরিয়া মসজিদ শুধু একটি নামাজের স্থান নয়—এটি ফেনীর ধর্মীয়, সামাজিক ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে মসজিদের পরিবেশ ও মুসল্লিদের সম্প্রীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।