
ফেনীর এসপি মাহবুব আলম খানকে ঘিরে অপপ্রচার: সরকারি নথিতে মিললো অভিযোগের অসত্যতার প্রমাণ
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তাকারী সংস্থার নেতৃবৃন্দের
ফেনীর নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুব আলম খানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন প্রচারণার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তাকারী সংস্থার কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জনাব আবুল কাশেম এবং কেন্দ্রীয় পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ও ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক জনাব মোহাম্মদ হানিফ পৃথক বিবৃতিতে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২০১৬ সালের একটি আলোচিত ঘটনার সঙ্গে ফেনীর বর্তমান পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুব আলম খানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে অনুসন্ধানে সরকারি নথিপত্রে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মাহবুব আলম খান ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকার পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত “30th Police Financial Management Certificate Course”-এ অংশগ্রহণ করেন। অথচ সামাজিক মাধ্যমে যেই ঘটনার অভিযোগ তোলা হয়েছে, তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৭ আগস্ট ২০১৬।
সরকারি নথিতে দেখা যায়, প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং কোর্স শেষে তাকে আনুষ্ঠানিক রিলিজ সার্টিফিকেটও প্রদান করা হয়। ফলে অভিযোগের সময় তিনি ঢাকায় সরকারি প্রশিক্ষণে অবস্থান করছিলেন— এমন তথ্যই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে অফিসিয়াল রেকর্ডে।
সময়ের ধারাবাহিক বিশ্লেষণেও অভিযোগের অসঙ্গতি স্পষ্ট হয়েছে—
১৪ আগস্ট ২০১৬: ঢাকায় প্রশিক্ষণ শুরু
১৭ আগস্ট ২০১৬: অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনার তারিখ
১ সেপ্টেম্বর ২০১৬: প্রশিক্ষণ সমাপ্ত
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, আবাসিক প্রশিক্ষণে থাকা অবস্থায় একজন কর্মকর্তার নির্ধারিত সময়জুড়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে একই সময়ে অন্য জেলায় সংঘটিত ঘটনায় তাকে জড়ানোর দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তাকারী সংস্থার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জনাব আবুল কাশেম বলেন,
“কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার আগে সঠিক তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার শুধু একজন কর্মকর্তার নয়, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমরা এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানাই।”
ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক জনাব মোহাম্মদ হানিফ বলেন,
“সরকারি নথিপত্রেই স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে অভিযোগের সময় মাহবুব আলম খান ঢাকায় সরকারি প্রশিক্ষণে ছিলেন। তারপরও অপপ্রচার চালানো অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। জনগণের উচিত যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করা।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোঃ মাহবুব আলম খান ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ সময় চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনিক রেকর্ড অনুযায়ী, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতেও তিনি দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অতীতে তিনি একাধিকবার পদোন্নতি বঞ্চিতও হয়েছেন। এমনকি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্ব পাননি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি তিনি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সুবিধাপ্রাপ্ত হতেন, তাহলে আগেই গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং অনেক সময় নির্দোষ ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
বর্তমানে মোঃ মাহবুব আলম খান ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি নথি, প্রশাসনিক রেকর্ড ও সময়রেখা বিশ্লেষণে সংশ্লিষ্টদের দাবি— তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে এ ধরনের অপপ্রচার অনেকাংশে কমে আসবে।