
সাটুরিয়া বাজারে ইজারাদারকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল ব্যবসায়ী মহল।
জাহাঙ্গীর আলম স্টাফ রিপোর্টার মানিকগঞ্জ
সাটুরিয়া বাজারকে কেন্দ্র করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, অতিরিক্ত টোল আদায় ও বাজার ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন চালক এবং সাধারণ ক্রেতাদের দাবি— সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে বছরের পর বছর ধরে একটি কুচক্রী মহল বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।
অতিরিক্ত খাজনা আদায়ে ব্যবসায়ীদের মনে ক্ষোভ।
ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার নির্ধারিত টোলের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেশি খাজনা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কাঁচামাল, সবজি কিংবা দৈনন্দিন পণ্য নিয়ে বাজারে বসতে গেলেই ইজারাদারের লোকজন অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। কেউ প্রতিবাদ করলে বাজারে বসতে না দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো এমনকি মারধরের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন কাঁচামাল বিক্রেতা বলেন,
“আমরা গরিব মানুষ। বাজারে না বসলে সংসার চলবে না। কিন্তু প্রতিদিন বাড়তি টাকা দিতে দিতে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।” টোল চার্ট না থাকায় চলছে ইচ্ছেমতো আদায়
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি হাট-বাজারে দৃশ্যমান স্থানে টোল বা খাজনার তালিকা টানানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু সাটুরিয়া বাজারে এমন কোনো তালিকা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ইজারাদারের লোকজন নিজেদের ইচ্ছামতো বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে প্রবেশ করা পিকআপ, নসিমন, ভ্যান কিংবা অন্যান্য পণ্যবাহী যান থেকেও নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামের ওপর।
সাব-লিজ দেওয়ার অভিযোগ
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সরকারি ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে বাজারটি অন্য একটি পক্ষের কাছে সাব-লিজ দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইজারা নেওয়া বাজার তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর বা সাব-লিজ দেওয়ার সুযোগ নেই। বাজারের মালীর ও ঝাড়ুদার এর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার নিয়ে মৌখিক সাব ইজারা দেয়ার কারণে বাজারে ময়লা আবর্জনায় ছেয়ে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত ইজারাদারের পরিবর্তে একটি সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে।
“বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলা”
বাজারজুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকলেও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মাছ ও কাঁচাবাজার এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধে ক্রেতা ও বিক্রেতারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘদিন ধরে বাজারের স্যানিটেশন ও বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
ব্যবসায়ী সমিতির নেতার অভিযোগ নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা বলেন, “ইজারাদারের স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা দিশেহারা। অতিরিক্ত টোল আদায় ও ভয়ভীতি দেখানোর কারণে অনেকে এখন এই বাজারে আসতেই চান না।” তিনি আরও বলেন, বাজারের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
“প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি”
স্থানীয় ব্যবসায়ী, সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসন এবং মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন–এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের দাবি—বাজারে সরকারি টোল তালিকা দৃশ্যমানভাবে টানাতে হবে। অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করতে হবে। বাজারে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ সাব-লিজ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং ঐতিহ্যবাহী সাটুরিয়া বাজার ব্যবসায়ীদের আস্থা হারাবে।