
আবু বকর সিদ্দিক, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জ: অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মুন্সিগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ‘ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ-২০২৬’। সারা দেশের ন্যায় মুন্সিগঞ্জ জেলাজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায়, সুশৃঙ্খল ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী এ বিশেষ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রচার সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন করা হয়। উল্লেখ্য, এবারের ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘অগ্নিযোদ্ধাদের পণ, নিরাপদে রাখিব সম্পদ ও জীবন’। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “উন্নয়নের সাথে সাথে অগ্নিঝুঁকিও বাড়ছে। তাই কেবল ফায়ার সার্ভিসের ওপর ভরসা না করে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। বাসাবাড়ি ও কলকারখানায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জের পুলিশ… স্পেশালিস্ট ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ মেনহাজুল আলম। তিনি ফায়ার ফাইটারদের সাহসিকতার প্রশংসা করে যেকোনো দুর্যোগে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উদ্বোধনী এ মহতী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম পিএফএম। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের একঝাঁক প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার (স্বেচ্ছাসেবক), গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও মুখরিত হয়ে ওঠে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা সভা শেষে জেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য ও সুসজ্জিত সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি অগ্নি সচেতনতামূলক বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে মুন্সিগঞ্জ শহরের প্রধান প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে।
র্যালি শেষে ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস ও দক্ষ দল কর্তৃক অগ্নিকাণ্ড, বহুতল ভবন থেকে উদ্ধারকার্য এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার আধুনিক কৌশল প্রদর্শন করা হয়। চিত্তাকর্ষক ও রোমাঞ্চকর এই উদ্ধার মহড়ায় কীভাবে অতি দ্রুত আগুন নেভানো যায়, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ রোধ করা যায় এবং আটকে পড়া মানুষের জীবন রক্ষা করা যায়—তা বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। মহড়া চলাকালীন উপস্থিত সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাবিধি নিখুঁতভাবে মেনে চলা এবং যেকোনো জরুরি দুর্ঘটনায় প্রাথমিক করণীয় সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেওয়া হয়। বক্তারা সাধারণ জনগণকে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, “ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জনগণের জানমাল রক্ষায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত রয়েছে। তবে যেকোনো বড় বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি রোধে সাধারণ জনগণের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা, সহযোগিতা ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের আধুনিক সক্ষমতা ও জনবল বাড়াতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্বোধনী দিনেই জনসাধারণের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং শহরজুড়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ মে পর্যন্ত জেলাজুড়ে ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহের এই জনসচেতনতামূলক ও মহড়া কার্যক্রম সফলভাবে চলমান থাকবে।