
মেশিনে রোগ শনাক্তের নামে প্রতারণা? হাতে সেন্সর ধরিয়েই “সব রোগ শনাক্ত” — আশুলিয়ায় বিতর্কিত মেশিনে রোগ নির্ণয়, তথ্য চাইতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ ।
“শুধু হাতে একটি সেন্সর ধরিয়ে কয়েক মিনিটেই শরীরের বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্তের দাবি। আশুলিয়ার বাড়াইপাড়া এলাকায় একটি হোমিও ফার্মেসিকে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। তথ্য সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।”
আশুলিয়ার বাড়াইপাড়া এলাকায় অবস্থিত মা আছিয়া হোমিও ফার্মেসী-তে একটি তথাকথিত “Quantum Magnetic Resonance Analyzer” মেশিন ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের শরীরের বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র হাতে সেন্সর ধরিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই কিডনি, লিভার, হার্ট, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্তের কথা বলা হয়। পরে সেই তথাকথিত রিপোর্ট দেখিয়ে রোগীদের কাছে ওষুধও বিক্রি করা হয়।
বিষয়টির সত্যতা যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের জন্য কয়েকজন সাংবাদিক প্রতিষ্ঠানটিতে গেলে ব্যবহৃত মেশিনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, সরকারি অনুমোদন ও চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চান।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—
এই মেশিনটি কি Directorate General of Health Services, Bangladesh Medical and Dental Council অথবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত কিনা এবং কোন আইনের ভিত্তিতে “সব রোগ শনাক্ত” করার দাবি করা হচ্ছে।
এছাড়া একজন DHMS চিকিৎসক কীভাবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো রোগ নির্ণয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন সাংবাদিকরা।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যবহৃত মেশিনের বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা, সরকারি অনুমোদন কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো গবেষণার তথ্য দেখাতে পারেননি।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, একপর্যায়ে প্রশ্নের মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও অসদাচরণের ঘটনা ঘটে। এমনকি সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা, প্যাথলজি, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। শুধুমাত্র হাতে সেন্সর ধরিয়ে শরীরের সব রোগ শনাক্তের দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
“জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যাচাইবিহীন দাবি ও প্রশ্নবিদ্ধ চিকিৎসা কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।”