1. dailyprobatibangladesh@gmail.com : daily probati bangladesh : daily probati bangladesh
  2. live@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
  3. info@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ :
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বেকায়দায় ট্রাম্প মার্কিন জনগণের আস্থা সংকট ও কৌশলগত ব্যর্থতার মুখে হোয়াইট হাউস - দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দৌলতপুরে দেশনেত্রী ফোরামের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত পদ্মাসেতু টোল প্লাজায় অভিযান কোটি টাকার অবৈধ বাগদা রেণু জ ব্দ বেনাপোলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর গাড়িবহরে হা ম লা র ঘটনা ঘটেছে। ডুমুরিয়ায় সড়ক দু র্ঘ ট না য় এক জনের মৃ ত্যু। আরো অনেকে আ হ ত। শার্শায় বেনাপোল সীমান্ত পরিদর্শনে এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী আম মৌসুমকে সামনে রেখে সাপাহার সদরে যানজট নিরসনে প্রশাসনের বিশেষ অভিযান ইসলামী ব্যাংক খুরশীদ আলম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে গ্রাহক ফোরাম। সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫ জন পরোয়ানাভূক্ত আ সা মী কে গ্রে ফ তা র করেছে বিএনপি নেতা আসহাব উদ্দিন চৌধুরীর মায়ের দাফন সম্পন্ন চারঘাটে র‍্যাবের মা দ কবিরোধী অভিযান: ৩১৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ আ ট ক এক কারবারি

ভিডিও সংবাদ 👇👇

ইরান যুদ্ধ নিয়ে বেকায়দায় ট্রাম্প মার্কিন জনগণের আস্থা সংকট ও কৌশলগত ব্যর্থতার মুখে হোয়াইট হাউস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, প্রভাতী বাংলাদেশ:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে
হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, প্রভাতী বাংলাদেশ:

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা সামরিক অভিযান এখন তার নিজের জন্যই এক বিশাল রাজনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের সূচনালগ্নে হোয়াইট হাউস যে আগ্রাসী ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থান দেখিয়েছিল, সময়ের সাথে সাথে তা ম্লান হতে শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই সংকটের নানা দিক। বিভিন্ন নতুন জনমত জরিপ স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ এই যুদ্ধ নিয়ে চরমভাবে ক্লান্ত এবং তারা আর বিশ্বাস করছে না যে এই সংঘাতের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বড় কোনো কৌশলগত সাফল্য বা বিজয় অর্জন করতে পারবে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই বেশিরভাগ আমেরিকান নাগরিক এর বিপক্ষে ছিলেন। এখন যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তত বাড়ছে। তারা মনে করছেন, এই যুদ্ধ অনির্দিষ্টকাল ধরে চললেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া অসম্ভব। একই সঙ্গে, ইরানের কাছ থেকে এমন কোনো বড় ধরনের ছাড় বা আত্মসমর্পণ আদায় করা সম্ভব হবে না, যা এই যুদ্ধের পেছনে ব্যয় হওয়া বিপুল অর্থ ও মার্কিন সেনাদের জীবনের মূল্য পরিশোধকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ও গবেষণা সংস্থার করা সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা সংকেত দিচ্ছে।

১. ফক্স নিউজের জরিপ: সাধারণত ট্রাম্পের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে পরিচিত ফক্স নিউজের এক জরিপেই দেখা গেছে, মাত্র ৩৯ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত’ চালিয়ে যাওয়া উচিত। বিপরীতে, বিশাল ব্যবধানে অর্থাৎ ৬১ শতাংশ ভোটার চান একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ হোক।

২. নিউইয়র্ক টাইমস-সিয়েনা কলেজের জরিপ: এই জরিপে ৫২ শতাংশ ভোটার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যদি কোনো নতুন সমঝোতা বা চুক্তি নাও হয়, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ এখনই বন্ধ করা উচিত। মাত্র ৩৭ শতাংশ মানুষ চান যে আলোচনা ব্যর্থ হলে আবার বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান শুরু করা হোক।

৩. পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের ব্যাপারে সংশয়: জরিপে আরও দেখা গেছে, অনেক আমেরিকানই মনে করেন না যে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধূলিসাৎ করা সম্ভব। মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে এই যুদ্ধ ‘খুব সফলভাবে’ ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে পারবে।

৪. ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি নিউজের জরিপ: এই জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন যে যুদ্ধ শেষে যদি কোনো চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়, সেটি ইরানকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে পুরোপুরি বিরত রাখতে পারবে—এ ব্যাপারে তারা মোটেও আস্থাশীল নন। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের পেছনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরুতেই দুটি বড় ধরনের কৌশলগত ভুল (Strategic Mistakes) করেছেন। প্রথম ভুল: সুস্পষ্ট সমাপ্তি পরিকল্পনার অভাব ট্রাম্প যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট, বাস্তবসম্মত এবং সুনির্দিষ্ট সমাপ্তি পরিকল্পনা (Exit Strategy) মার্কিন জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেননি। একটি যুদ্ধ কীভাবে শুরু হবে তার চেয়ে বড় বিষয় হলো সেটি কীভাবে সফলতার সাথে শেষ হবে। ট্রাম্প প্রশাসন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা মার্কিন জনগণের মধ্যে ভিয়েতনাম বা ইরাক যুদ্ধের মতো আরেকটি দীর্ঘমেয়াদী চোরাবালিতে আটকে পড়ার ভয় তৈরি করেছে।

দ্বিতীয় ভুল: লক্ষ্যমাত্রাকে অতি-উচ্চাভিলাষী করা যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্পের লক্ষ্যগুলো এতটাই বড় এবং অবাস্তব ছিল যে এখন তা অর্জন করা হোয়াইট হাউসের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, তিনি কেবল ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ মেনে নেবেন। পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের দীর্ঘদিনের আর্থিক ও সামরিক সমর্থন চিরতরে থামানোই তার প্রধান লক্ষ্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের মতো একটি শক্তিশালী ও আঞ্চলিকভাবে প্রভাবশালী রাষ্ট্রকে এভাবে পুরোপুরি নতজানু করা সামরিক উপায়ে সহজ নয়। এদিকে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার কিছু খসড়া শর্ত বা বিষয়াবলী গণমাধ্যমে সামনে আসার পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। খোদ ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির অনেক শীর্ষ নেতাই এই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের বড় আশঙ্কা হলো, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যে সম্ভাব্য সমঝোতা হতে যাচ্ছে, তা ইরানকে উল্টো আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্পপন্থী কট্টরপন্থী রিপাবলিকানদের একটি অংশ মনে করছে, ইরান যদি তাদের কঠোর অবস্থান ধরে রাখে, তবে ট্রাম্পের সামনে এমন কোনো সহজ সমাধান থাকবে না যা একই সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করবে এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে ‘বিজয়ী’ হিসেবে মার্কিন জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে। ফলে এটি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ইমেজকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের (Pew Research Center) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ আমেরিকান এখন আর মনে করেন না যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে নিজেদের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে সক্ষম। সিএনএনের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ বলেছেন যে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর তাদের ‘অনেক আস্থা’ রয়েছে। বিপরীতে, সিংহভাগ অর্থাৎ ৫৯ শতাংশ মানুষ পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর তাদের খুব কম বা একেবারেই কোনো আস্থা নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা রয়েছে:

  • প্রথম পথ: যেকোনো উপায়ে হোক কিছুটা আপসের মাধ্যমে একটি দ্রুত কূটনৈতিক চুক্তি করে যুদ্ধ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনা।

  • দ্বিতীয় পথ: নিজের জেদ বজায় রেখে এই যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করা।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প যদি দ্বিতীয় পথটি বেছে নেন, তবে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য এক বিশাল ও অপূরণীয় রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হোয়াইট হাউস এখন এই দুই উভয়সংকটের কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট