
বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্ত এঁর স্মরণে কেশবপুরে ধামাইল দিবস উদযাপন।
দিলীপ কুমার দাশ,স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ
বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্ত-এঁর স্মরণে সুনামগঞ্জ জেলার,জগন্নাথপুর উপজেলার,কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সৃজনশীল ও নান্দনিক পরিবেশের হল রুমটি কানায়,কানায় পূর্ণ হয়ে সুরের মূর্ছনায় মুখরিত হওয়ায় অভূতপূর্ব দৃষ্টিনন্দন সুর তরঙ্গের সৃষ্টি হয়,যা অংশগ্রহণকারী ধামাইল সঙ্গীত পরিবেশনকারী ও শ্রবণকারীদের জীবনে স্মরণীয় একটি ধামাইল পরিবেশন মিলন মেলা হিসেবে হৃদয়ের গহীন কাননে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে।
দিনব্যাপী ধামাইল উৎসব ও ধামাইল দিবস উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে)বৈষ্ণব কবির নিজ বাড়ি ও সমাধিস্থলে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। পরে দিনব্যাপী আলোচনা সভা, ধামাইল পরিবেশনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ধামাইল উন্নয়ন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে সভাপতিত্ব করেন,বিশিষ্ট গীতিকার মোঃ আছকির আলী। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন,কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেন(মুছা) ও সাধারণ সম্পাদিকা নিপা সূত্রধর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ আবু হুরায়রা (ছাঁদ মাস্টার)।
তিনি বলেন,“রাধারমণ দত্ত এঁর ধামাইল ধামাইল গান,আমাদের হাজার বছরের লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ ধামাইল উন্নয়ন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি দ্রুপদ চৌধুরী (নূপুর),বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এম,সি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (Mathematics) ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার রায়,সিলেট বিভাগ, রাজনীতিবিদ মোঃ হাবিল মিয়া,কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চিনু চক্রবর্তী,কোষাধ্যক্ষ সুপ্রভা রাণী কর, দপ্তর সম্পাদক নিপ্রেশ তালুকদার (রানু), রজত চক্রবর্তী,সভাপতি সিলেট বিভাগ,বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশেন্দু কুমার দেব, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মাধুরী তালুকদার, শান্তিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি দিলীপ কুমার দাশ, সহ-সভাপতি নন্দলাল দাশ, সাধারণ সম্পাদক দিপক দাশসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শিমুল পাল, জন দাস, ববিতা বর্মন, স্নেহা দাশ (তুলি), বর্ণিতা পুরকায়স্থ, উমা দাস, রিয়া মহালদার, দিরাই উপজেলা শাখার সভাপতি অসীম রায় চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অমীয় রায় (অশোক), লন্ডন প্রবাসী আব্দুল শামীম,শিক্ষক জায়েদ হোসেইন, আলেয়া বেগম,মাহবুবা বেগম (শিলা),মরিয়ম আক্তার (অতিথি) সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জিলু মিয়া,রমজান আলী, মোঃ রাফিক মিয়া, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক জিলু মিয়া,তৈয়বুর রহমান,শাহ ফুজায়েল আহমেদ,সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ধামাইল শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, ধামাইলপ্রেমী ও রাধারমণ ভক্তরা।
দিনব্যাপী আয়োজনে ধামাইল পরিবেশনার সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে কেশবপুর আকাশ বাতাস। শিল্পীরা রাধারমণ দত্ত এঁর কালজয়ী গানগুলো পরিবেশন করলে দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর আত্মার প্রশান্তির পরিবেশ। বক্তারা বলেন, বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধামাইল সংস্কৃতি ধরে রাখা,সংগ্রহ করা ও সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। বিশ্বব্যাপী ধামাইল সঙ্গীতকে পরিচিত করে তুলতে এ ধরণের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।