
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সামান্য বৃষ্টির পানিতে জমে থাকে শহীদ মেজর নজমুল হক সড়কের অংশ। বৃষ্টির পানিতে সড়ক বড় অংশ ডুবে গেছে।
আরমান হোসেন ফয়সাল
লোহাগাড়ার প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম জেলা
চট্টগ্রাম লোহাগাড়ায় সামান্য বৃষ্টির পানিতে জমে থাকে শহিদ মেজর নজমুল হক সড়কের অংশ। বৃষ্টির পানিতে ডুবে সড়ক বড় অংশ ডুবে গেছে
সাধারণ মানুষ,শিক্ষার্থী ও গাড়ি চলাচলে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয় লোহাগাড়ায়। উপজেলার লোহাগাড়া মা`শিশু হাসপাতালের পার্শ্বে লাগানো শহীদ মেজর নজমুল হক সড়ক। সড়কটি দিয়ে চলাচল করে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও গাড়ি চলাচল। সড়ক দিয়ে মেজর নজমু্ল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমিরাবাদ চেরী গ্রামার স্কুল,দক্ষিণ সাতকানিয়া গোলামবারি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়,আমিরাবাদ সুফিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী যাতায়াত করে থাকে। সামান্য বৃষ্টির পানিতে সড়কের মোহাম্মদ আলীর দর্জির দোকান থেকে চেরি গ্রামার স্কুল পর্যন্ত জমে রয়েছে পানি। সড়কটি ডুবে গেছে। সড়কের ময়লার পানি গুলো ছিটকে কাপড়-ছোপড় ভিজে যাচ্ছে।
সড়কের ডোবা অংশে পানি নিষ্কাশনের নালাগুলো ভরাট হয়ে গেছে, নালার মধ্যে ঢুকে গেছে মাটি,বস্তা।
সড়কটি মেরামতে স্থানীয় কারো তদারিকি নেই।
এলাকার বাসিন্দা জাফর সওদাগর বলেন, সড়কটি আমাদের চলাচলের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপুর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির একটি অংশ বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। হালকা বৃষ্টি হওয়ায় সড়কটির অংশ ডুবে গেছে। তাই সড়কটি সংস্কারের জন্য অতীব জরুরি।
এলাকার বাসিন্দা, আল মদিনা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারি মোঃ শাহজাহান সওদাগর বলেন, সকালে বৃষ্টি হওয়ার পর পরই সড়কটি একটি অংশ ডুবে গেছে। আমরা বাসাও যেতে পারছিনা। ডোবার অংশের পার্শ্বেই আমার বাসা। এলাকার সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারছেনা।
এলাকার বাসিন্দা রহিম বকসু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ভবন নির্মাণ করেছে। এলাকার অনেক স্থানীয়রা জায়গা-জমি বিক্রি করে অন্যত্র ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে।হালকা বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমরা হাটা চলাচল করতে পারছিনা। সড়কের পাশে থাকা নালাগুলো নিষ্কাশনের কোন উদ্যোগ নেই। এলাকার কিছু প্রভাবশালী নালাগুলোতে বস্তা দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
আমিরাবাদ চেরী গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাঈনুদ্দিন বলেন, হালকা বৃষ্টিতে সড়কের অংশে এভাবে ডুবে গেছে,ভারি বর্ষণ হলেও তো সড়কটি আরও বেশি ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সড়কটি দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে থাকে। দীর্ঘদিনের সমস্যা এই সড়কটি। এখন যেহেতু স্কুল বন্ধ। অনেক শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়তে আসে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। দ্রুত সময়ে এই সড়কের বড় অংশটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলে এলাকার মানুষ,গাড়ি চালক ও শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।
আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাস্টার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সড়কটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ। যেহেতু মেজর নজমুল হকের নামে একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেরি গ্রামার স্কুলসহ কয়েকটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সড়কটি চলাচলে দুর্ভোগের কারণ হলো ভবন মালিকদের। ভবন মালিকরা ভবন করে নালা থাকলে সেগুলো পরিস্কার রাখেনা, অনেক জায়গায় ভবন করেছে, পানি চলাচলের জন্য নালার ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি আমি দেখতেছি। উপজেলা প্রকৌশলীকে অবগত করে সড়কটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মঈনুল হোসেন বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জেনেছি। উপজেলা প্রকৌশলী স্যারের সাথে বিষয়টি আলোচনা করে সড়কটির ডুবে যাওয়া অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নিতে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সাধারণ জনগণ,পথচারি , যান চলাচলকারি ও শিক্ষার্থীরা।