
সোশ্যাল এইডের উদ্যোগে ফেনীতে ১ হাজার ৬০০ পরিবারের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণ
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবন্ধী, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের পাশে মানবিক সহায়তা
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানবিক সংগঠন সোশ্যাল এইডের উদ্যোগে ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র, অসহায়, হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে কোরবানির গরুর গোশত বিতরণ করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় জেলার তিনটি স্থানে মোট ১ হাজার ৬০০ পরিবারের মধ্যে জনপ্রতি ২ কেজি করে গোশত বিতরণ করা হয়।
জানা যায়, ঈদের আনন্দ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে কোরবানির মাংসের অংশীদার করতে সোশ্যাল এইড এ উদ্যোগ গ্রহণ করে। কর্মসূচির আওতায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন কমিউনিটি সেন্টার ঈদগাহ মাঠ, সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের আমিরাবাদ ভবানী চরণ লাহা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ এবং মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সুলাখালী এলাকার মরহুম শামসুল হকের বাড়ির মাঠে পর্যায়ক্রমে গোশত বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিতরণ কার্যক্রমে স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, দিনমজুর, শ্রমজীবী মানুষ, ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অভাবগ্রস্ত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি পরিবারের হাতে সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে ২ কেজি করে কোরবানির গরুর গোশত তুলে দেওয়া হয়।
সোশ্যাল এইডের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম নাছির উদ্দিনের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়। তিনি জানান, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে ঈদের হাসি ফোটানো এবং কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা—ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণ—সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও মানবিক সহায়তামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এ সময় নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহিরসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনগুলো যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে ঈদের আনন্দ আরও বেশি অর্থবহ হয়ে উঠবে।
গোশত গ্রহণকারী অনেক পরিবার সোশ্যাল এইডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে কোরবানির গোশত পাওয়া তাদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা। এমন উদ্যোগের ফলে ঈদের আনন্দ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে পরিচালিত এ কর্মসূচি স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে সোশ্যাল এইডের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।