
ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সাটুরিয়ায় ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা অনুষ্ঠিত
জাহাঙ্গীর আলম স্টাফ রিপোর্টার মানিকগঞ্জ
পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৈজুরী গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ খেলা লাঠিখেলা। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কৈজুরী নব কল্লোল যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
শনিবার (৩০ মে) দুপুর থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই লাঠিখেলা দেখতে নারী, পুরুষ, শিশু ও তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। খেলার মাঠজুড়ে ছিল দর্শকদের উচ্ছ্বাস, করতালি ও আনন্দধ্বনি। দীর্ঘদিনের গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ঘিরে এমন আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহের জন্ম দেয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে উপজেলার জান্না গ্রাম থেকে আগত অভিজ্ঞ লাঠিয়াল দল। তারা লাঠির নান্দনিক কসরত, আত্মরক্ষামূলক কৌশল, শক্তি ও দক্ষতার মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী উপস্থাপন করেন। প্রতিটি প্রদর্শনীতে দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন। খেলোয়াড়দের শৈল্পিক ভঙ্গি, ছন্দময় পদচারণা এবং ঐতিহ্যবাহী লাঠিযুদ্ধের বিভিন্ন কৌশল উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
লাঠিখেলা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিনোদনের যুগে এমন লোকজ আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা বলেন, এসব আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তাদের শেকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়, যা সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান কৈজুরী নব কল্লোল যুব সংঘের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাসুদ রানা বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামের মানুষের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করতেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা চাই তরুণ প্রজন্ম ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানুক এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতি তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাক। ভবিষ্যতেও আমরা এমন সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কৈজুরী নব কল্লোল যুব সংঘের সভাপতি মোঃ আব্দুর রউফ। দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষে তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরে সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা শুধু বিনোদনেরই উৎস ছিল না, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে স্থানীয়দের মনে বিশেষ স্থান করে নেয়। এমন আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী