
*নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার*
“আলীকদম থানার বিশেষ অভিযানে চকরিয়া থেকে আটক”
স্টাফ রিপোর্টার: মুহাম্মদ সালাহ্ উদ্দীন, আলীকদম (বান্দরবান)
বান্দরবানের আলীকদম থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অদ্য ০২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন শাহ’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) নিশাত বড়ুয়া, এএসআই (নিঃ) রনেশ বড়ুয়া, এএসআই (নিঃ) মাহামুদুল হাসান, এএসআই (নিঃ) রাজীব দে এবং সঙ্গীয় ফোর্স সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম কক্সবাজার জেলার কৈয়ারবিল ডাঙ্গারচর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে নারী ও শিশু ৭০/১৮, জিআর নং-১০০/১৮, আলীকদম থানা মামলা নং-০৩, তারিখ-১৩/০৪/২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ সোহেল (৩৫), পিতা-মৃত বাবুল আহম্মদ, মাতা-মমতাজ বেগম, সাং- খুইল্যা মিয়া চেয়ারম্যান পাড়া, ২নং ওয়ার্ড, ১নং আলীকদম ইউনিয়ন, থানা-আলীকদম, জেলা-বান্দরবানকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর ৭/৩০ ধারার অপরাধে আদালত আসামিকে ১৪ (চৌদ্দ) বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ (এক) মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
একইসঙ্গে ৯(৩)/৩০ ধারার অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ (ছয়) মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
আদালতের রায় ঘোষণার পর হতে আসামি দীর্ঘদিন যাবৎ আত্মগোপনে থেকে গ্রেফতার এড়িয়ে চলছিল। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তাকে সফলভাবে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক জারিকৃত সাজা পরোয়ানা (Conviction Warrant) কার্যকর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, আলীকদম থানা পুলিশের এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং অপরাধীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিচ্ছে যে, আইনের আওতার বাইরে কেউ নয়।