
রূপালী ব্যাংকের এমডির অপসারণ দাবির পর জিয়া পরিষদের ৩ নেতাকে বদলি।
মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঢাকা জেলা প্রতিনিধি।
রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্হাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী মোঃ ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক বৈষম্য ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে স্মারকলিপি দেওয়ার পরপরই জাতীয়তাবাদী ঘরানার সংগঠন “জিয়া পরিষদ”-এর শীর্ষ তিন নেতাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে।
সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ সুত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া ওই স্মারকলিপি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির এই শীর্ষ নেতাদের তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ জারি করে।
বদলি হওয়া নেতারা হলেন- সংগঠনটির আহবায়ক মোঃ গোলাম সারোয়ার, যাকে ফরিদপুরে বদলি করা হয়েছে, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ এস এম নিয়াজ মোশাররফ, যাকে ময়মনসিংহে এবং সদস্যসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়েছে।
জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মোট ১১ জন কর্মকর্তার বদলির আদেশে অন্যদের অবমুক্তির (রিলিজ) সময়সীমা ১৮ জুন উল্লেখ করা হলেও,এই তিন নেতাকে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, একই আদেশে আওয়ামীলীগপন্হী সংগঠন স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ-এর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক মীর আবু নাসের জয়কে ঢাকার মতিঝিল করপোরেট শাখায় বদলি করে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ৪ জুন রূপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদের নেতারা অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে ব্যাংকের ব্যবস্হাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব,ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করা হয়।
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়,”খারাপ ব্যবস্হাপনা” অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংকটি প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এ ছাড়া রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি ও ক্রীড়া কার্যক্রমের নামে তহবিলের অপব্যবহার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পদোন্নতি ও পদায়ন এবং সাবেক আওয়ামীলীগ সরকারের বিরোধিতাকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি করার অভিযোগ ও আনা হয়।
সংগঠনটির আরও দাবি, বর্তমান এমডি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও বিএনপি ঘরানার আদর্শের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা বদলি,পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং নানামুখী হুমকির শিকার হচ্ছেন।
জিয়া পরিষদের নেতারা ব্যবস্হাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে–ব্যাংক প্রশাসনের পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাত থেকে ফ্যাসিবাদী প্রভাব দূর করা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের উপযুক্ত পদে পদায়ন করা।
সংগঠনটির অভিযোগ, স্মারকলিপি প্রদান এবং তা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সম্পূর্ণ প্রতিশোধমূলক ভাবে এই সাম্প্রতিক বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে।
রূপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদের সভাপতি মোঃ গোলাম সারোয়ার বলেন,এর মাধ্যমে উনি মূলত ওনার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো আমলে না নিয়ে উল্টো জিয়া পরিষদের নেতৃবৃন্ধকে হেনস্হা করতে শঠতার আশ্রয় নিয়েছেন।যোগদানের পর থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তাদের নানাভাবে হয়রানির শিকার করেছেন। প্রমোশন বঞ্চিতসহ দূর-দূরান্তে বদলী করেছেন অনেককেই। ঠিক যেন ফ্যাসিষ্টের যোগ্য উত্তরসূরী। আর ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে ও তিনি ভুমিকা পালন করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম কাছে ফোন দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে কল কেটে দেন।এরপর তাকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।