
গ্রাম আদালতকে জনমুখী করতে লৌহজংয়ে কর্মশালা সচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
আবু বকর সিদ্দিক:-মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত,সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু।বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালাটি পরিচালনা করেন উপজেলা সমন্বয়কারী শিলা আক্তার।
কর্মশালায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম,বিচার প্রক্রিয়া, সুবিধা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে এর গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।বক্তারা বলেন,স্থানীয় পর্যায়ের ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উল ইসলাম,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান উদ দৌলা,উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম,মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আরাধনা রানী কর্মকার,সমাজসেবা কর্মকর্তা উজ্জ্বল মুন্সী, এনজিও প্রতিনিধি অজিত কুমার তালুকদার ও মো:হায়দার হোসেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিক্রমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদ খান,লৌহজং প্রেসক্লাবের সভাপতি মো:শওকত হোসেন,লৌহজং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু নাসের লিমন,সাংবাদিক মিজানুর রহমান ঝিলু সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও ফারজানা ববি মিতু বলেন,গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিচারসেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর ব্যবস্থা।এ সেবার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন,জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে এবং স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,গ্রাম আদালত আইন-২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত গ্রাম আদালত অনধিক তিন লাখ টাকা মূল্যমানের দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে পারে।বক্তারা আশা প্রকাশ করেন,এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।