মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন
Title :
দুর্গাপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, সার ব্যবস্থাপনা আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা কর্মঘণ্টায় তালাবদ্ধ ৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউএনওর আকস্মিক পরিদর্শন মুন্সীগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা বিধবার জমি দখলের অভিযোগ স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে নাজিরপুর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতির ঘের দখলের চেষ্টা নাজিরপুর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতির ঘের দখলের চেষ্টা শান্তিগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ডুমুরিয়া বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ অনুষ্ঠিত সুন্দরগঞ্জে মৎস্য চাষি ছাড়াই মৎস্য পক্ষ উদযাপন ২০২৬ ভূমিমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার পেলেন উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি গোলাম সাকলায়েন

একদিনে দু’দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ-ঘনঘন কম্পনে বাড়ছে শঙ্কা, প্রয়োজন প্রস্ততি ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ৪৫ Time View

মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

একদিনে দু দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ। রোববার (২২জন) বিকেলে প্রথমে তুলনামূলক কম মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, পরে রাত ০৯ঃ৩০মিঃ দিকে আরো শক্তিশালী কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ২ দশমিক ৫, যার কেন্দ্র ছিল রংপুরে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৪৩ কিলোমিটার দূরে এবং গভীরতা ছিল প্রায় ৫ কিলোমিটার। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ০৯ঃ৩০ মিনিটে অনুভূত দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৯, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম অঞ্চলে, ঢাকা থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার দূরে। এই কম্পনের গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। একদিনে পরপর দুই দফা ভূমিকম্পের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় মাঝে মধ্যে এই ধরনের কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে উদ্ধেগের জায়গা হল—দেশের বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্বল ভবন নির্মাণ, সরু—সড়ক, জনঘনত্ব এবং জরুরী সারা দেওয়ার সীমাবদ্ধতা। ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

এই বাস্তবতায় শুধু আতঙ্ক নয়, সবচেয়ে জরুরী হলো সচেতনতা, প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়ি করে সিঁড়িতে নামার চেষ্টা না করে ড্রপ, কাভার, হোল্ড পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে—অর্থাৎ নিচু হয়ে বসা, মজবুত টেবিল বা আসবারের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং শক্তভাবে ধরে থাকা। বাসা, অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরুরী নির্গমনপথ, খোলা নিরাপদ স্থান, প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, টর্চ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র রাখা উচিত। পারিবারিক ভিত্তিক একটি জরুরী পরিকল্পনাও থাকা দরকার, যাতে দুর্যোগের সময় কে কোথায় যাবে এবং কিভাবে যোগাযোগ করবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। সরকারের পক্ষ থেকেও এখন সংযোপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরী। প্রথমত, ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সংস্কার বা অপসারণের ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়তঃ, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত মহড়া চালু করা জরুরি। পাশাপাশি, দেশের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিক করা, দ্রুত সতর্ক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি উন্নত করা এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো ও সময়ের দাবি। ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব নয়, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব—ঘন ঘন ভূমিকম্পের এ বার্তা তাই আতঙ্কের নয়, বরং সতর্ক হয়ে ওঠার শেষ সুযোগ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews