
শ্রীপুরের এক রান্নাঘর থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে পাঁচটি বসতঘর পুড়ে গেছে
মোঃ খাইরুল ইসলাম উপজেলা প্রতিনিধি শ্রীপুর
গাজীপুরের শ্রীপুরে রান্নাঘর থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে পাঁচটি বসতঘর পুড়ে গেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কালীবাড়ি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে বসতঘরগুলোর আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রায় সব মালামাল পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় এক কলেজছাত্রীর বই-খাতা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও পুড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে একটি রান্নাঘরে রান্নার সময় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে রান্নাঘরে আগুন জ্বলতে দেখা গেলেও মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরগুলো পাশাপাশি অবস্থিত হওয়ায় এবং এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নিজেদের উদ্যোগে কাজ শুরু করেন।
পাশের নদী থেকে পানি এনে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডে পাপেল, সায়েবালী, সেলিনা, পারভীন ও সুরহাব আলীর পাঁচটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মালামাল আগুনে পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনের তীব্রতায় ঘরের অধিকাংশ মালামাল বের করে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার সুযোগ পাননি তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত সুরহাব আলীর মেয়ে সেঁজতি আক্তার স্থানীয় গয়েশপুর কলেজের শিক্ষার্থী। আগুনে তার কলেজের বই-খাতা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে গেছে। এতে তার পড়াশোনা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
সেঁজতি আক্তার বলেন, “আগুনে আমার বই-খাতা, কাগজপত্রসহ পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন নতুন করে বই-খাতা জোগাড় করা নিয়ে চিন্তায় আছি।”
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, অগ্নিকাণ্ডে তাদের ঘরের প্রায় সব মালামাল পুড়ে যাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হঠাৎ করে বসতঘর ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইসলাম উদ্দিন বলেন, “রান্নাঘরে পাতা দিয়ে রান্না করার সময় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন দ্রুত আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে পাঁচটি বসতঘরের মালামাল পুড়ে গেছে।”
অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে থাকা পুড়ে যাওয়া মালামাল সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনে মোট কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।