
মোঃইকবাল হোসেন নিজস্ব (শিবপুর) প্রতিনিধি:
নরসিংদীর ঘোড়াশাল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার।এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি অন্ধকারের সুযোগে চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধের আশঙ্কাও বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।ঘোড়াশাল পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। প্রায় ২৭ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভার অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কবাতির সংকট। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক ও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাতি নষ্ট হয়ে থাকলেওতা সংস্কার বা নতুন বাতি স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।সরেজমিনে দেখা যায়, পলাশ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘোড়াশাল বাইপাস (চিনিশপুর রোড) এবং ঘোড়াশাল বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘোড়াশাল জুট মিল পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশে পর্যাপ্ত সড়কবাতি নেই। এছাড়া পলাশ সার কারখানা রোড, কে-অপারেটিভ স্কুলের রাস্তা, উত্তর চরপাড়া পোস্ট
অফিস সড়ক, বাংলা জুট মিল থেকে মাদ্রাসা এবং মিয়াপাড়া থেকে সড়কসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়ও সড়কবাতির সংকট রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, পৌর এলাকায় প্রায় ৩ হাজার সড়কবাতি থাকলেও এর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার বাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ও অকেজো হয়ে পড়ে আছে ফলে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সড়কে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা এসব রাস্তা দিয়ে চলাচলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পৌর এলাকায় থাকা সড়কবাতির মধ্যে অনেক বাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। কোথাও বাতি থাকলেও দিনের বেলায় জ্বলে এবং রাতে বন্ধ থাকে—এমন সমস্যাও রয়েছে। আবার কিছু এলাকায় বাতি চুরি যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।এদিকে, ঘোড়াশাল পৌরসভার সড়কবাতি পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহান জানান, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সড়কবাতি মেরামত ও নতুন বাতি স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। তবে গাড়ির যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির কারণে কাজের ব্যাঘাত ঘটছে।
স্থানীয়রা দ্রুত নষ্ট সড়কবাতি মেরামত, প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন বাতি স্থাপন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে পৌর এলাকার সড়কগুলো আলোকিত করার দাবি জানিয়েছেন।