
শ্রীপুর কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেডের নারী শ্রমিক লিজা আক্তার মৃত্যু হওয়ার চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিতকরণ
নাম: মোঃ খাইরুল ইসলাম শ্রীপুর উপজেলার প্রতিনিধি গাজীপুর
গাজীপুরের শ্রীপুরের কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় নারী শ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যু এবং পরবর্তী শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। কারখানার অব্যবস্থাপনা, অসুস্থ অবস্থায়ও ছুটি না দেওয়া এবং মানসিক চাপের কারণে একজন কর্মীর অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ঘটনার প্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, নতুন হেল্পলাইন চালু এবং চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। কিন্তু শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—‘অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা’ এবং ‘কাজের চাপ’—এই বিষয়গুলো কি আসলেই নিরসন হবে? শ্রমিকদের জীবন ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি এবং কর্মঘণ্টা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর পদক্ষেপ কাম্য। আমরা চাই, এমন ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং প্রতিটি শ্রমিকের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।
চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিতকরণঃ
কর্মীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কারখানার চিকিৎসা সেবা উন্নত করা হবে। অনতিবিলম্বে আরও পূর্ণকালীন এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হবে এবং জরুরী সেবায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ফ্যাক্টরীতে ডাকা হবে।
টিফিনের মান উন্নয়ন:
কারখানা কর্তৃপক্ষ বর্তমান টিফিন এর গুনগত মান ধারাবাহিক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে খাবারের মান, বৈচিত্রা আনা হবে।
সুশাসন ও তদারকি শক্তিশালীকরণঃ
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পরিচালকের প্রতিনিধিত্বে একটি বিশেষ স্বাধীন টিম গঠন করা হবে। এই টিম নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন করে শ্রমিকদের কল্যাণ, অভিযোগ তদন্ত এবং কোম্পানির নীতিমালা অনুসরণের বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তা সরাসরি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অফিসে অবহিত করা হবে এবং দ্রুত সংশোধনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে অভিযোগকারীর নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হবে।
কর্মীদের জন্য বিশেষ হেল্পলাইনঃ
শ্রমিকগণ বৈষম্য, হয়রানি বা কর্মক্ষেত্রের অভিযোগ সম্পর্কে সরাসরি হেড অফিসের মানবসম্পদ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, সে জন্য একটি বিশেষ হেপ্ললাইন (০১৩২২-৯০৪৮৩৮) চালু করা আছে। এই হেল্পলাইন নির্ধারিত এইচআর কর্মকর্তারা পরিচালনা করবেন এবং প্রতিটি অভিযোগ গোপনীয়ভাবে গ্রহণ, দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনার কাছে উপস্থাপন করবেন।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থাঃ
কারখানা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিমধ্যে প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে এই অনাকাংঙ্খিত ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বরখাস্ত করা হয়েছে এবং প্রকৃত কারন অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আগামীকাল সকাল ০৮:৩০ ঘটিকায় ফ্যাক্টরী প্রাঙ্ঘনে মরহুমা লিজা বেগম এর বিদেহীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ায় শরিক হওয়ার জন্য কালার এন্ড কোং এন ‘মী ও শ্রমিক ভাইবোনদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।