
রাজশাহীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু, ৬৬ হাজারের বেশি শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকাতেও শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি শুরু হয়। নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
সকালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন সিটি প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। এরপর নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের আওতাধীন সব নির্ধারিত কেন্দ্রে একযোগে ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম শুরু হয়।
কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে।
ক্যাম্পেইন চলাকালে প্রতিটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশুদের বয়স যাচাই করে নির্ধারিত ক্যাপসুল প্রদান করছেন। একই সঙ্গে অভিভাবকদের ভিটামিন ‘এ’-এর উপকারিতা, শিশুর সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত টিকাদান এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিভাবকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিচ্ছেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ৬৬ হাজার ৩৯৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৯ হাজার ১১৩ জন শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫৭ হাজার ২৮২ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল প্রদান করা হবে।
এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে মোট ৩৮৪টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কোনো শিশু সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ে ৭৬৮ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত রয়েছেন। তারা শিশু ও অভিভাবকদের কেন্দ্রে সেবা গ্রহণে সহায়তা করা, সারিবদ্ধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত বয়সসীমার সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় এনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন আশা করছে, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন সম্ভব হবে এবং নগরীর শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।