
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক সেনাসদস্য থেকে সফল উদ্যোক্তা—পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার চাটখিল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পরিবর্তনে মাঠে নেমেছেন তরুণ নেতা আশরাফুল মাওলা পিন্টু।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তরুণ ও প্রগতিশীল নেতৃত্বের জয়জয়কার সর্বত্র। গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে এবার চাটখিল পৌরসভা নির্বাচনে এক নতুন আশার আলো হয়ে সামনে এসেছেন ২৫ বছর বয়সী তরুণ উদীয়মান মুখ আশরাফুল মাওলা পিন্টু।
তিনি চাটখিল উপজেলা বিআরডিবি-র সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা কাঞ্চন-এর কনিষ্ঠ সন্তান। ব্যক্তিগত সততা, সুশৃঙ্খল জীবন এবং তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি এবার ৫নং ওয়ার্ডে (লামচর ও দৌলতপুর গ্রাম) কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শৃঙ্খলিত জীবন ও বর্ণিল শিক্ষাজীবন:
মাত্র ২৫ বছর বয়সে বহুমুখী অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ করেছেন এই তরুণ। শিক্ষাজীবনে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে বিএসএস (BSS) ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট (IML) থেকে আরবি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। পড়াশোনা শেষে তিনি দেশমাতৃকার টানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে একজন সাবেক সেনাসদস্য হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বকে পেশাগত জীবনে রূপ দিয়ে হয়ে উঠেছেন একজন সফল উদ্যোক্তা ও সরকারিভাবে সার্টিফাইড ‘লেভেল ফোর’ ট্রেইনার। বর্তমানে তিনি ‘আকীদাহ্ গ্রুপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কেন এই নির্বাচন? এবং তারুণ্যের নেতৃত্ব: প্রথাগত রাজনৈতিক প্রলোভন ও দুর্নীতির বলয় ভেঙে ওয়ার্ডবাসীকে একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান আশরাফুল মাওলা পিন্টু। তাঁর নির্বাচনী স্লোগান— “আমার জন্মস্থান, আমার দায়িত্ব। আমি কোনো দলের নয়, আমি আপনাদের সবার। দল-মত নয়, সততা ও যোগ্যতাই হোক উন্নয়নের ভিত্তি।”
৫নং ওয়ার্ডের উন্নয়নে তাঁর সুনির্দিষ্ট ‘৭ দফা অঙ্গীকার’: এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তিনি যে ৭টি প্রধান এজেন্ডা ঘোষণা করেছেন, তা স্থানীয়বাসীর মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে:
১. টেকসই রাস্তা ও শতভাগ পথবাতি নিশ্চিতকরণ।
২. যুব প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি: বেকারত্ব দূর করতে যুবকদের আইটি, কারিগরি ও ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ প্রদান।
৩. স্পোর্টস ক্লাব ও সামাজিক পাঠাগার: দৌলতপুর ও লামচর গ্রামে ২টি স্পোর্টস ক্লাব ও ২টি পাঠাগার নির্মাণ।
৪. মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠন।
৫. শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিতকরণ।
৬. প্রতি ৩ মাসে ফান্ডের উন্মুক্ত হিসাব: জনগণের সামনে সরাসরি এবং ফেসবুক লাইভে সরকারি অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ।
৭. দালালামুক্ত দ্রুত নাগরিক সেবা এবং প্রতি মাসে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা।
স্বাস্থ্যসেবা ও ট্যুরিজম উন্নয়নের অভিনব উদ্যোগ: জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তিনি সম্পূর্ণ নিজ খরচে প্রতি মাসে লামচর ও দৌলতপুর গ্রামে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন। যেখানে একজন অভিজ্ঞ পুরুষ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং একজন নারী মা ও শিশু (গাইনী) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি, এই দুটি গ্রামকে বাংলাদেশের বুকে একটি আকর্ষণীয় ‘মডেল ট্যুরিজম গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
এলাকার মুরব্বি ও যুবসমাজ মনে করছেন, একজন সাবেক সেনাসদস্য ও প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তার এমন সুশৃঙ্খল ও দূরদর্শী নেতৃত্ব পেলে চাটখিল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড একটি দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক ও মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হবে। তরুণদের হাতে গড়া এই পরিবর্তনের হাওয়া এখন পুরো চাটখিলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।