
গ্রামের চায়ের দোকানে ওয়াইফাই: সর্বনাশা অনলাইন জুয়া খেলার নীরব সহায়ক
মোঃ মাহবুবুল আলম বিভাগীয় ব্যুরো ময়মনসিংহ
গ্রামের সাধারণ চায়ের দোকানগুলো একসময় ছিল আড্ডা, গল্প আর সামাজিক যোগাযোগের কেন্দ্র। কিন্তু প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এখন সেই চায়ের দোকানেই যুক্ত হয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা, যা একদিকে যেমন তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়িয়েছে, অন্যদিকে তা হয়ে উঠছে সর্বনাশা অনলাইন জুয়া খেলার নীরব সহায়ক।
ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামীণ চায়ের দোকানগুলোতে এখন তরুণ, দিন মজুর সহ নানা ধরনের পেশাজীবী মানুষের ভিড় বাড়ছে। হাতে স্মার্টফোন, আর দোকানের ফ্রি ওয়াইফাই—এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার মতো অবৈধ কার্যক্রমে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন দিন এই প্রবণতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
এখন কিছু লোক দীর্ঘ সময় চায়ের দোকানে অবস্থান করে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। পরে জানা যাচ্ছে, তারা অনলাইন গেমিংয়ের আড়ালে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে সময়, অর্থ এবং ভবিষ্যৎ।
স্থানীয় এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গ্রাহক বাড়ানোর জন্যই ওয়াইফাই চালু করেছি। কিন্তু এখন দেখি, অনেকেই শুধু বসে মোবাইলে খেলে—কী খেলে সেটা আমরা বুঝি না, তবে বিষয়টা ভালো মনে হয় না।”
সচেতন মহল বলছে, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এর প্রভাব সমাজে আরও গভীর হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা জানান, গ্রামে গ্রামে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অবৈধ অনলাইন কার্যক্রম বন্ধে কঠোর নজরদারি জরুরি। একইসঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে এই সুবিধাই হয়ে উঠতে পারে বড় ধরনের সামাজিক বিপর্যয়ের কারণ।