
চলছে বাল্যবিবাহ, নীরব প্রশাসন: অসহায় পিতা-মাতা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
মোঃ মাহবুবুল আলম ব্যুরো চীফ ময়মনসিংহ
দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এখনো থামছে না বাল্যবিবাহের প্রবণতা। আইন থাকা সত্ত্বেও একের পর এক নাবালিকা কিশোরীকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে গোপনে বা সামাজিক চাপে। এদিকে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। ফলে অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেক পিতা-মাতা, আর অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরিদ্রতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এবং কুসংস্কারের কারণে অনেক পরিবার অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা। বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
একাধিক অভিভাবক জানান, ৮ ম থেকে ১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বাবা মায়ের অজান্তে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। মেয়েকে স্কুলে পাঠানো নিরাপদ মনে করছেন না অভিভাবকেরা। বদনাম ,সমাজের নানা রকম চাপে বাধ্য হয়ে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে অনেকে।আবার কেউ কেউ বলেন, “অর্থনৈতিক কষ্টও একটি বড় কারণ। মেয়েকে যত তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়া যায়, তত দায় কমে।”
তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের খবর প্রশাসনের কাছে পৌঁছালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এই অপরাধ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতেই থাকে।
শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা বলছেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। এর ফলে কিশোরীদের শিক্ষা ব্যাহত হয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে এবং তাদের জীবনে নেমে আসে অকাল দায়িত্বের বোঝা।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক সমাজকর্মী বলেন, “আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পরিবারগুলোকে বুঝাতে হবে যে, মেয়েদের শিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, সামাজিক সচেতনতা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে প্রশ্ন থেকে যায়—আর কত কিশোরীর স্বপ্ন ভেঙে যাবে? আর কত পরিবার অসহায় হয়ে এই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে? এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।