
ডিউটি শেষে ঘুমিয়ে আর উঠলেন না এসআই আজিজুল।
আরমান হোসেন ফয়সাল
লোহাগাড়ার প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম জেলা
শুক্রবার সারাদিন স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করেছেন। রাত আটটায় ডিউটি শেষ করে থানার ব্যারাকে নিজের কক্ষে গেলেন বিশ্রাম নিতে। সহকর্মীরা ভেবেছিলেন ক্লান্ত মানুষ একটু ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু পরদিন সকালেও কক্ষ থেকে বেরোলেন না। ফোন দিলে সাড়া নেই।
দরজা খুলে দেখা গেল— এসআই আজিজুল হক অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানালেন, তিনি আর নেই। ঘুমের মধ্যেই চলে গেছেন চিরতরে।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক আজিজুল হকের বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া গ্রামের ছেলে। মৃত আনোয়ারুল হকের সন্তান।
গত ২০ মে লোহাগাড়া থানায় যোগ দিয়েছিলেন এসআই হিসেবে। মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে সহকর্মীদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে সহকর্মীরা বারবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে কক্ষে গিয়ে তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। পরিবারকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। লোহাগাড়া থানায় জানাজা শেষে মরদেহ চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হবে। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একজন মানুষ রাতের ডিউটি শেষে ঘুমাতে গেলেন, আর ফিরলেন না। লোহাগাড়া থানার সহকর্মীরা আজ শোকে নীরব। যিনি সারাদিন দায়িত্ব পালন করে রাতে ব্যারাকে ফিরেছিলেন, তিনি জানতেন না এটাই তাঁর শেষ রাত।
সাতক্ষীরার সরুলিয়ার ছেলে চট্টগ্রামের মাটিতে এভাবে থেমে গেলেন— পরিবার এখন অপেক্ষা করছে তাঁকে শেষবারের মতো কাছে পেতে