
মোঃ আমজাদ হোসেন, (নীলফামারী)
ঢাকায় নিজ কক্ষে রাকিব ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরকে হত্যার পর তার মরদেহ কার্টনে ভরে নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মামুন (২৬)পিতা মোঃ আফসার আলী।নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। হত্যার পর ঢাকায় ফিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিব জীবিত রয়েছে । এমন ভিডিও তৈরি করে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। পরে মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বসুনিয়া পাড়া হতে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করেছে ডিমলা থানার পুলিশ।
নিহত রাকিব ইসলাম টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার হামনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর গ্রামের খাদেমুল ইসলামের দ্বিতীয় ছেলে।
নিহতের ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন জানায়, রাকিবকে জীবিত ফেরত দেওয়ার কথা বলে আব্দুল্লাহ মামুন তাদের কাছে কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও রাকিবকে আর ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি জানিয়ে রাকিবের পরিবার ঢাকার সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত (৩ অক্টোবর) ২০২৬ ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে। মামুনকে গ্রেপ্তারের পর রাকিবের পরিবার ঢাকার কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির ডিএমপি মামলা নম্বর-০৫, তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামুনকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামে নেওয়া হয়। তার দেখানো স্থান অনুযায়ী রাকিবের মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার স্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ৬ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে বিকাল ৪টার দিকে ওই স্থান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে ডিমলা থানায় নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার শুক্রাবাদে রাকিবের সঙ্গে আব্দুল্লাহ মামুনের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার একটি কক্ষে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে রাকিবকে হত্যা করা হয় বলে মামুন পুলিশকে জানিয়েছে বলে জানা গেছে।
মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর রাকিবের মরদেহ একটি কার্টনে ভরে সে বাসা থেকে বের হয়। পরে ঢাকার কল্যাণপুরে গিয়ে রংপুরগামী একটি গাড়িতে ওঠে। যাত্রাপথে কার্টনের ভেতরে কী আছে জানতে চাইলে সেখানে ইলিশ মাছ রয়েছে বলে জানায় সে। রংপুরে পৌঁছে লোকাল বাসে করে ডিমলায় আসে মামুন। পরে মরদেহটি নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে সুপারি বাগানে কার্টনসহ মাটিচাপা দিয়ে রাখে বলে তার দেওয়া তথ্যে জানা গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে মামুন কয়েকজন ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে। তবে ব্যক্তির সম্পৃক্ততা কী পর্যায়ে এবং তারা কীভাবে ঘটনায় জড়িত তা এখনো তদন্তাধীন।
এদিকে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি এবং সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ ঘটনাটিকে আরও চাঞ্চল্যকর করে তুলেছে। পরিবারের দাবি, ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় তারা চার লাখ টাকা দিলেও শেষ পর্যন্ত রাকিবকে ফিরে পাননি।
পুলিশ বলছে, মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, মুক্তিপণের অর্থ লেনদেন, এআই ভিডিও তৈরির বিষয়টি এবং রতন ও নুর জামালসহ অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনায় আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম বলেন, অপহরণ ও হত্যা বিষয়ে ঢাকা ডিএমপি কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়। আসামীকে গ্রেফতার করে ডিমলা থানায় নিয়ে আসে মরদেহ উত্তোলনে আমাদের সহযোগিতা চায়। ডিমলা থানা পুলিশ মরদেহ উত্তোলনে সহযোগিতা করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে