
ভ্রমণবিলাস ও প্রকৃতির অন্বেষণে প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার একঝাঁক দুরন্ত সাংবাদিক
জাহাঙ্গীর আলম স্টাফ রিপোর্টার মানিকগঞ্জ।
কর্মব্যস্ততার একঘেয়েমি পেছনে ফেলে কিশোরগঞ্জের হাওর-বাঁওড়, নদী-নালা ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে আনন্দে মেতেছেন প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার সাংবাদিকরা
প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি, হাওর-বাঁওড়, নদী-নালা, বিস্তীর্ণ জলরাশি ও সবুজের সমারোহে সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক জেলা কিশোরগঞ্জ। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর ঐতিহ্যের নানা নিদর্শনে ভরপুর এই জেলায় কর্মব্যস্ততার একঘেয়েমি পেছনে ফেলে ভ্রমণ ও আনন্দে মেতে উঠেছেন প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার একঝাঁক দুরন্ত সাংবাদিক।
পেশাগত জীবনে সংবাদ সংগ্রহ, লেখা, সম্পাদনা ও নানা দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততার মধ্যে নিজেদের জন্য কিছুটা সময় বের করে সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতেই এই আনন্দভ্রমণের আয়োজন করা হয়। ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিল শুধু দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন নয়; বরং প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো, মানসিক প্রশান্তি লাভ এবং সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করা।
ভ্রমণের শুরু থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পথ চলতে চলতে হাসি-আনন্দ, গল্প, আড্ডা ও নানা স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো দল। কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততা ও নানা চাপ থেকে দূরে গিয়ে সাংবাদিকরা একে অন্যের সঙ্গে প্রাণখোলা সময় কাটান। কখনো গান, কখনো হাস্যরস, আবার কখনো প্রকৃতির সৌন্দর্য নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ—সব মিলিয়ে পুরো ভ্রমণজুড়েই ছিল আনন্দের আবহ।
কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ নিকলী হাওর ছিল এই ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। চোখজুড়ানো জলরাশি, দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ, হাওরের বুকজুড়ে নৌযান চলাচল এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতি মুগ্ধ করে সবাইকে। হাওরের বিশাল জলরাশির মাঝে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন সাংবাদিকরা। কেউ ছবি তুলেছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করেছেন, আবার কেউ হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন নীরবে।
এরপর ভ্রমণকারীরা ঘুরে দেখেন মিঠামইন। হাওরঘেরা এই জনপদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নির্মল পরিবেশ ভ্রমণপিপাসুদের মনে আলাদা আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। চারপাশের বিস্তীর্ণ জলাভূমি, গ্রামীণ জনপদ ও প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য যেন শহুরে ব্যস্ততা থেকে এক অন্য জগতে নিয়ে যায় সবাইকে।
ভ্রমণের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিদর্শন করেন প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার সাংবাদিকরা। উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাতের ঐতিহ্যবাহী এই ময়দান ঘুরে দেখে এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা নেন তারা। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্স পরিদর্শনও ছিল ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের এই স্থানগুলো ঘুরে দেখে ভ্রমণকারীরা যেমন জ্ঞান অর্জন করেছেন, তেমনি পেয়েছেন আত্মিক প্রশান্তিও। পুরো ভ্রমণজুড়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি ছিল সহকর্মীদের মধ্যে প্রাণবন্ত আড্ডা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়া, ছবি তোলা, গল্প করা এবং বিভিন্ন স্মৃতি ক্যামেরাবন্দি করার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে আরও আনন্দময় ও স্মরণীয়।
প্রকৃতির মায়াবী হাতছানি, হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি আর নির্মল বাতাসে যেন কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যান ব্যস্ত পেশাজীবনের মানুষগুলো। সংবাদ সংগ্রহের তাগিদে প্রতিদিন ছুটে চলা সাংবাদিকদের জন্য এমন একটি ভ্রমণ ছিল মানসিক প্রশান্তি ও সতেজতা ফিরে পাওয়ার একটি চমৎকার সুযোগ।
এই আনন্দভ্রমণে ছিলেন প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার আহ্বায়ক মোঃ ইউনুস আলী, সদস্য সচিব মোঃ আজিজুল রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ রেজাউল করিম ও মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক,সিনিয়র সদস্য, সিকদার শামীম আল মামুন, প্রকৌশলী মোঃ মাসুদ রানা। সদস্য, মোঃ আরিফুল ইসলাম অরি মোঃ নজরুল ইসলাম মোঃ আমিনুর ইসলাম, মোঃ সজিব হোসেন, মাসুম বিল্লাহ।
সাংবাদিকরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে এমন আনন্দঘন আয়োজন পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। কর্মক্ষেত্রে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও সময় ও সুযোগ অনুযায়ী এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
সবশেষে কিশোরগঞ্জের মায়াবী প্রকৃতির মাঝে কাটানো সময়টি শুধু একটি ভ্রমণ হয়ে থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে সহকর্মীদের সঙ্গে হৃদ্যতা, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্য আরও গভীর করার এক সুন্দর উপলক্ষ। কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে পাওয়া নির্মল আনন্দ, হাসি-আড্ডা আর একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো দীর্ঘদিন স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার এই দুরন্ত সাংবাদিকদের।