
*শিরোনাম: ৩৫০ বছরের জীবন্ত ইতিহাস — কেশবপুর প্রতাপপুরের প্রাচীন বটগাছ*
বাবলু হাসান কেশবপুর প্রতিনিধ
যশোরের কেশবপুর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৩৫০ বছরের পুরাতন এক বিশাল বটগাছ। মুঘল আমলের সাক্ষী এই মহীরুহ আজও গ্রামের মানুষের কাছে ঐতিহ্যের প্রতীক।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ধারণা, গাছটির বয়স আনুমানিক সাড়ে তিনশো বছর। এর বিশাল কাণ্ড, ঝুলন্ত ঝুরি আর বিস্তৃত শাখা-প্রশাখা জুড়ে তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক ছায়ার এক বিশাল সাম্রাজ্য। এক নজর দেখলেই বোঝা যায় এটি সাধারণ কোনো গাছ নয়।
প্রতাপপুরের মানুষের মুখে মুখে ফেরে গাছটির গল্প। বলা হয়, মুঘল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ — চারটা যুগ দেখেছে এই বটগাছ। একসময় এর নিচে বসতো গ্রামের সালিশ, হাট-বাজার আর পথিকের বিশ্রাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও অনেক মুক্তিযোদ্ধা এই বটতলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে এলাকাবাসী জানান।
গ্রামের প্রবীণ আব্দুল বারিক চাচা, যার বয়স ১০৬ বছর, তিনিও বলেন, “ছোটবেলা থেকে এই গাছ এমনই দেখে আসছি। আমাদের দাদা-পরদাদারাও এর ছায়ায় বসেছে।”
পরিবেশবিদরা বলছেন, ৩০০+ বছরের একটি বটগাছ একটি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও আবহাওয়ার ভারসাম্য রক্ষায় বিশাল ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের প্রাচীন বৃক্ষ সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।