
সিটি কলেজে নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা
ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।
রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বিতর্কিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার দুপুর ১২টার দিকে সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, শ্রেণিকক্ষের বারান্দা এবং প্রশাসনিক অংশ প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি কলেজ চত্বরে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নবগঠিত কমিটির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ঘোষিত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক নীতিমালা ও যোগ্যতার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের দাবি, কমিটিতে এমন অনেক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা চেনেন না এবং অতীতের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল না।
বক্তারা আরও বলেন, ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন কিংবা শিক্ষার্থী নন—এমন ব্যক্তিদেরও কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড, নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ, ইভটিজিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার সুপারিশে এসব ব্যক্তিকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, ছাত্রদলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থেকে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন, মামলা, হামলা ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন কমিটি গঠনের পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে নবগঠিত কমিটিকে কলেজ ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে দাবি জানানো হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট নেতাদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।
বক্তারা আরও বলেন, বিতর্কিত কমিটি গঠনের ঘটনা শুধু সিটি কলেজেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের অভিযোগ দেখা যাচ্ছে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং প্রকৃত কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং সংগঠনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একইসঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সিটি কলেজে একটি গ্রহণযোগ্য, দক্ষ ও শিক্ষার্থীবান্ধব কমিটি গঠন করা হোক।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিশাল রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক তাফাকুল ইসলাম সৈকত, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান চন্দন এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ও সিটি কলেজের ছাত্রনেতা আন নাফি খান মনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।