
সোনাগাজী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
সোনাগাজী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান।
সমাজ পরিচালনা কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ নির্মূলে ৮ দফা সিদ্ধান্ত; রাত ১১টার মধ্যে দোকান বন্ধ ও মধ্যরাতের পর সন্দেহভাজন চলাচলে নজরদারির ঘোষণা
মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে সোনাগাজী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড সমাজ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে অপরাধ দমন সংক্রান্ত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রওজাতুল উলুম রহমানীয়া মাদ্রাসা মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইকবাল হোসেন। সভা পরিচালনা করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক কাউন্সিলর ও সমাজের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন আলাউল ভূঁইয়া, পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য মো. মোস্তফা, যুবদল নেতা নুর আলম জিকু এবং ছাত্রদল নেতা শাহীন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর ও উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সমাজ পরিচালনা কমিটির পঞ্চায়েত সদস্য কবির মিয়া, হারুন ভূঁইয়া, আব্দুল্যাহ মিয়া, রফিক ওয়াদুদ, ছুপিয়ান মিয়া, মানু মিয়া, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সাগর, হাসেমসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক, চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে অপরাধ প্রতিরোধে ৮ দফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো—
৯ নম্বর ওয়ার্ডের সব দোকান রাত ১১টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে।
রাত ১২টার পর প্রয়োজন ছাড়া কোনো বহিরাগতকে ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
মধ্যরাতের পর প্রয়োজন ছাড়া কাউকে রাস্তায় চলাফেরা করতে দেখা গেলে পর্যবেক্ষক দল তাকে সমাজ পরিচালনা কমিটির কাছে হস্তান্তর করবে।
ওয়ার্ডে চিহ্নিত আটটি মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের স্পটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রাত ১২টার পর কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবস্থায় ধরা পড়লে তার অভিভাবকের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে অপরাধীদের নাম-পরিচয় সমাজ পরিচালনা কমিটির কাছে গোপনীয়ভাবে জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় আরও দুই থেকে তিনটি অপরাধ দমনবিষয়ক আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে।
কোনো অপরাধী রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ের আড়ালে ছাড় পাবে না।
সভা শেষে উপস্থিত সবাই অপরাধ, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ গঠনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।