
আব্দুর রহিম,কলারোয়া উপজেলা
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার প্রবাসী মো. হারুন রশিদের ২০ লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে মোছা. নাসরিন নাহার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নাসরিন নাহার যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর এলাকার নজরুল মোল্যার কন্যা। ভুক্তভোগী হারুন রশিদ জানান, আত্মীয়তার সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এবং ঘরবাড়ি নির্মাণের চুক্তিতে নাসরিন নাহার বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। হারুন রশিদ বিদেশ থেকে তার বোনের ছেলের মাধ্যমে এবং নাসরিন নাহারের নিজস্ব ও তার মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ বিভিন্ন বিকাশ নাম্বারের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠান। লেনদেনের বিষয়ে স্ট্যাম্প চুক্তি ও পর্যাপ্ত সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে নাসরিন নাহার সেই পাওনা টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা শুরু করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতারণার শিকার হারুন রশিদ দাবি করেন, পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে অভিযুক্ত নাসরিন নাহার আইন-আদালতকে ফাঁকি দিতে গোপনে দেশ ছেড়ে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয়টি জানতে পেরে বাদীপক্ষ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। বিবাদীর জন্ম ও স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী তার বিস্তারিত তথ্য ইতোমধ্যে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদিপক্ষের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেলে পাওনা উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তের পাসপোর্ট জব্দসহ তার বিদেশ গমনে জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হারুন রশিদ বিজ্ঞ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলার তদন্ত সংস্থা যদি মনে করে যে আসামি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা (Travel Ban) জারি করা হতে পারে। এছাড়া অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং বিবাদী বিদেশে পালিয়ে গেলে তাকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারির বিষয়টিও আইনগত পর্যালোচনায় রয়েছে। কলারোয়া ও বাঘারপাড়া থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের হাড়ভাঙা খাটুনির অর্থ উদ্ধারে এবং প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।