
মোঃ আমজাদ হোসেন উপজেলা প্রতিনিধি
যাকাত ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম। সামর্থ্যবান মুসলমানদের উপর নির্ধারিত হারে যাকাত প্রদান ফরজ। তবে যাকাত দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কাদের যাকাত দেওয়া যাবে। পবিত্র কুরআনুল কারীম–এর সূরা তাওবা (৯:৬০) আয়াতে যাকাত বণ্টনের নির্ধারিত ৮টি খাত উল্লেখ করা হয়েছে। যাকাত পাওয়ার যোগ্য ৮ শ্রেণি:
১. ফকির – যাদের কোনো উপার্জন নেই বা একেবারেই অল্প। ২. মিসকিন – আয় আছে, কিন্তু প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ৩. আমিল – যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। ৪. মু’আল্লাফাতুল কুলুব – ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট বা সহযোগিতাপ্রত্যাশী ব্যক্তি। ৫. রাকাব – দাসমুক্তির জন্য (বর্তমানে প্রায় অপ্রচলিত)। ৬. গারিমিন – বৈধ কারণে ঋণগ্রস্ত ও ঋণ পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তি। ৭. ফি সাবিলিল্লাহ – আল্লাহর পথে কল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত অভাবী ব্যক্তি। ৮. ইবনুস সাবিল – সফরে অসহায় হয়ে পড়া মুসাফির। যাদের যাকাত দেওয়া যাবে না: ইসলামি বিধান অনুযায়ী মা-বাবা, দাদা-দাদি, ছেলে-মেয়ে ও স্বামী/স্ত্রীকে যাকাত দেওয়া যাবে না। কারণ তাদের ভরণপোষণ দেওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্ব। এছাড়া নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক ধনী ব্যক্তিও যাকাত পাওয়ার যোগ্য নন।
বিশেষ গুরুত্ব
ধর্মীয় আলেমদের মতে, যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিকট আত্মীয়দের মধ্যে কেউ যদি গরিব ও নিসাবের মালিক না হন, তাহলে তাকে যাকাত দেওয়া উত্তম এবং এতে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়—একটি যাকাতের, অন্যটি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যাকাত কেবল দান নয়; এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও সম্পদের সুষম বণ্টনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। তাই যথাযথ যাচাই-বাছাই করে যাকাত প্রদান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।